ঠান্ডা জ্বরের হাত থেকে বাঁচাবে যে খাবার জেনে নিন

 প্রতি বছর শীত অনেক রকম আনন্দবার্তা নিয়ে আসে । এর মাঝেও কারো কারো জন্য শীত বিভীষিকা হয়ে দেখা দেয় । কারণ তারা প্রায় ঠান্ডা জ্বর বা সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হতে থাকেন । যতই উষ্ণতার কাপড়চোপড় লেপ কম্বল ব্যবহার করা হোক না কেন । তাদের অবধারিতভাবে বুগতেই হয় । রোগ পরবর্তী এসব ব্যবস্থার চেয়ে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করাটাই ভালো হবে । আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে ঠান্ডা জ্বরের হাত থেকে বাঁচাবে যে খাবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ।

এ কাজে  সহায়তা করতে পারে কিছু ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যা আমাদের খাদ্যে উপস্থিত থাকে । প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে নিশ্চয় জানতে পারবেন যে ঠান্ডা জ্বরের হাত থেকে বাঁচাবে যে খাবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা -

পেজ সূচিপত্রঃ ঠান্ডা জ্বরের হাত থেকে বাঁচাবে যে খাবার  জেনে নিন

ফ্লু প্রতিরোধী  কপার 

রক্তের অন্যতম উপাদান শ্বেত কণিকা যারা জীবাণু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অন্যতম যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে । দেহকে রক্ষা করতে হলে তাদেরও প্রয়োজনমতো পুষ্টি দিতে হবে । তালিকায় প্রথম আসবে কপার যা কনিকাগুলো বৃদ্ধি করতে ব্যাপক সহায়তা করবে । কপার সহজ সমৃদ্ধ খাদ্যের মধ্যে আছে সেমাই , মুড়ি , শিম , ডাল , মটরশুটি , কেশর , আলু , ঢেঁপ , শামুক , মান কচু ও চকলেট ।

আরো পড়ুনঃ হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে জেনে নিন

ফ্লু প্রতিরোধই ভিটামিন ই

অন্যান্য ক্ষেত্রের মতোই বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে । 65 বছরের পর সুস্থ বৃদ্দরাও  খুব কম সাইটুকাহল নামক-জীবাণু রোদের রাসায়নিক মাধ্যমটি উৎপাদন করতে পারে । দেহে প্রবেশকারী জীবাণু গলা ধারণকারী ম্যাক্রোদেহ কম থাকে । ন্যাচারাল কিলার কোষও কমে যায় । আর অতিরিক্ত ভিটামিন ই দিলে  প্রয়োজনীয় সাইটোকাইন উৎপাদন দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে । অন্য

 কথায় ভিটামিন ই রোগ প্রতিরোধে কিছু কিছু ব্যবস্থাকে দ্বিগুণ হারে কাজে লাগাই । ভিটামিন ই এর উত্তম উৎস হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের বীজ , তিল , চিনা বাদাম ,গম , লেটুস পাতা ,জব , ভুট্টা , উদ্ভিজ তেল , মৎস্য ও মৎস্য চর্বি , ডিম ও মুরগির মাংস ।

ফ্লু প্রতিনিধি ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি - ১২

জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এগিয়ে যখন কোষের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে তখন ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি ১২ খুব প্রয়োজন পড়ে । জিংকের মতোই এ ভিটামিন গুলো বি ভিটামিন হারের ভিতরে প্রচুর পরিমানে থাকে । আর হারের ভিতরে অস্থিমজ্জায় এসব কোষ তৈরি কারখানাটি অবস্থিত । লেটুস পাতা , বাঁধাকপি , বৃক্ক ,শিম ,কমলা , সবুজ পাতাওয়ালা শাক ,বাদাম , সূর্যমুখীর বীজ ,জব ,ভট্টা ইত্যাদিতে প্রচুর ফলিক এসিড থাকে । ভিটামিন বি ১২ প্রাণীর খাদ্য যেমন কলিজা ও ডিম দুধে থাকে ।

আরো পড়ুনঃ হাঁপানির কারণ ও চিকিৎসা - হাঁপানি বা এজমা কি ?

 ফ্লু প্রতিরোধী জিংক

দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সজীব রাখতে জিংক অপরেহার্য । জিকির অসংখ্য কাজের মধ্যে অন্যতম ছিল কোনটি মজার অন্থিমজ্জার জীবাণু বৃদ্ধাংশে কোষগুলোর উৎপাদন তদারকি করা । এটি থায়মাস গ্রন্থেরও খোঁজখবর রাখে । থাইমাসে শ্বেত কণিকারা বিশেষভাবে পরিবর্তিত হয়ে টি কোষ তৈরি করে । জিংকের অন্যতম উৎস হল বিভিন্ন রকম কপি , মটরশুঁটি , তিল, তিসি , শস্যদানা ,গো মাংস ও সামুদ্রিক উদ্ভিদ ।

ফ্লু প্রতিনিধি কোয়ার্সেটিন 

দেহে আক্রমণকারী ভাইরাস সমূহ দেহ কোষকে ধ্বংস করার পর দেহ বেশ কিছু যোক্তমোল জমা হয়ে যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে যেকোনো সময় উড়িয়ে দিতে পারে ।কোয়ার্সেটীন এক ধরনের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ রাসায়নিক পদার্থ যা শাকসবজির ফল মূলে প্রচুর পরিমাণে জমা থাকে , ঐসব যুক্ত মৌলাকে নিষ্ক্রিয় করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা করে রাখে  । এর অন্যতম উৎস হল পেঁয়াজ , আপেল। বিশেষ করে আপেলের ত্বক ,চা ,রসুন , মরিচ , জাম ও জাম জাতীয় ফল আঙ্গুর ও টমেটো ।

আরো পড়ুনঃ চর্মরোগ হলে করণীয় কি জেনে নিন

শেষ কথা

আমরা যা কিছুই খাই না কেন তা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে পারতে হবে ।এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রমণকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করবে । কিন্তু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সেনা সদস্য কোষগুলো কয়েকদিন পর পরই প্রতি স্থাপিত হয় নতুন কোষ দ্বারা । কোনোটি বা একদিনও বাঁচে । আর ভাইরাস দেহে প্রবেশ করলে তাকে কোন ঠাসা করতে দশ মিলিয়ন পর্যন্ত এন্টিবডি দেহের রক্ত

 ঘোরাফেরা করতে পারে । তাই প্রতিটি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের কিছু না কিছু অংশগ্রহণ করলেও ৫টি  জরুরি রোগ প্রতিরোধ করতে পারেন । তাদের সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে । প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন । আর যদি না পড়ে থাকেন তাহলে আশা করব দয়া করে পড়ে নিবেন এতে

 আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন । তত্ত্ববহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত ভিজিট করবেন । ধন্যবাদ ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url