আপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

আপেলের কোন কোন গুণ আমাদের কিভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । প্রিয় পাঠক নিচে আমরা আলোচনা করব আপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে । আপনি যদি মনোযোগ সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে জানতে পারবেন বিস্তারিত তথ্য ।

এই আর্টিকেলে আমরা আরো আলোচনা করব আপেলের পুষ্টিগুণ এবং আপেল খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আমাদের আজকের আর্টিকেলের আলোচনা গুলি-

পেজ সূচি ঃআপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

  • ভূমিকা
  • আপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা
  • আপেলের অপকারিতা
  • আপেল খাওয়ার নিয়ম
  • আপেলের পুষ্টিগুণ
  • শেষ কথা

ভূমিকা

২০০৪ সালের আমেরিকায় ১০০ এর বেশি খাবারের উপর গবেষণা করা হয় । মূলত খাদ্যগুলোর মধ্যে কতটা পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট হয়েছে তা জানতে গবেষণা করা হয়েছিল । এর মধ্যে লাল এবং সবুজ আপেল যথাক্রমে ১২ এবং১৩হস্থানে রয়েছে  । আপেল একটি অত্যন্ত সুস্বাদু সুপরিচিত ফল যা সব জায়গায় পাওয়া যায় । প্রতিদিন একটি আপেল খান ডাক্তারের প্রয়োজন দূরে সরান এটি অতি পুরনো

 কথা হলেও কথাটি মিথ্যা নয় । এখন প্রশ্ন আপেল খেলে ডাক্তারের প্রয়োজন কেন কম পরবে? কি আছে আপেলে যে এটি এত উপকারী দেহের জন্য । এটি রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর একটি ফল যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে । আপেলে আছে শর্করা , ভিটামিন , খনিজ লবণ আর প্রাকটিন ও মেলিক এসিড । শর্করা প্রায় ৫০ শতাংশ ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি

আরো পড়ুনঃ খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা/অপকারিতা জেনে নিন

 এগুলোর উপস্থিতি আপেলের সালে ও ছালের সাথে লাগানো মাংসল অংশেই  বেশি । আপেলের ছালে মাংসল অংশের ছে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন এ আছে । খনিজ লবণের মধ্যে আছে প্রচুর পটাশিয়াম ফসফরাস ও লোহ । সোডিয়ামের পরিমাণ খুবই সামান্য । একটু দামি হলেও আপেল সত্যি সত্যি খুব উপকারী । চলুন এখন আপেলের ঔষধি গুন গুলো জেনে নেয়া যায়-

আপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা

ক্যান্সার দূর করে

আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিচার্জ এর পক্ষ থেকে জানা হয়েছে আপেল খেলে অগ্নাশয় এ ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রায় ২৩% হারে কমে । কারণ আপেলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্লাভোনল  থাকে এছাড়াও কনেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা আপেলের মধ্যে এমন কিছু উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন যা ট্রিটারপেনয়েডস নামে পরিচিত । এই উপাদানটি লিভার স্তন এবং কোলনের মধ্যে

 ক্যান্সারের কোষ বেড়ে উঠতে বাধা দেই । ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ইন দ্য ইউএস এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে আপেলের মধ্যে যে পরিমাণ ফাইবার থাকে তা মলাশয়ের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে ।

হার্ট ভালো রাখে

আগেই বলা হয়েছে যে আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে তা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে । এছাড়াও আপেলের খোসার মধ্যে যে ফেনলিক উপাদান থাকে তা রক্তনালিকার থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে । এর ফলে হার্টে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে ফলের ইট যন্ত্রের কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

কত মানুষেরই তো আছেন যারা অতিরিক্ত ওজনের কারণে জর্জরিত । আবার শুধুমাত্র এই কারণে নানারকম রোগ শরীরে ভাষা বাধতে শুরু করে । এমনকি ডায়াবেটিস হাড়ের রোগ কত কিছুই না । তাই সেই সমস্ত রূপকে যদি বিদায় জানাতে চান তাহলে নিয়ম করে আপেল খান । ফলটিতে উপস্থিত ফাইবার আপনার পেট ভরাতে সাহায্য করে কোন ক্যালোরি ছাড়াই এর ফলে ওজন ও নিয়ন্ত্রনে চলে আসে ।

লিভার সুস্থ রাখে

আমরা যা কিছু খাই তার মধ্যে কিছু না কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে । ফলে আমাদের লিভারের ক্ষতি হতে শুরু করে । যে কারণে লিবারকে সুস্থ রাখাটা খুবই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় । তবে লিভারকে ১০০% সুস্থ রাখতে পারে আপেল । এটি খুবই সহজেই লিভারের জমা হওয়া ক্ষতিকারক উপাদান বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে ।

কোলেস্টেরল কমায়

আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে তা অন্ত্রের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে । কোলেস্টেরল মাত্রা সঠিক থাকে আর একবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করলে হার্টের কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে ।

সাদা ঝকঝকে দাঁত

 আপেল খেলে দাঁতের দারুন উপকার হয় । তার কারণ আপেলে কামড় দিয়ে যখন আমরা চিবাতে শুরু করি তখন আমাদের মুখের ভিতর লালার সৃষ্টি হয় । এই পদ্ধতিতে দাঁতের কোণা থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বেরিয়ে আসে । এর ফলে সেই ব্যাকটেরিয়া আর দাঁতের কোন ক্ষতি করতে পারে না তাই বলে শুধু আপেল খেয়ে দাঁতের যত্ন নিবেন না । পেস্ট ব্রাশ ব্যবহার করেও দাঁতের যত্ন নিবেন ।

ত্বক ভালো রাখে

ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি শরীরের জন্য উপকারী । দুটোই এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষ গুলোর রক্ষা করে । স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন এ এর দরকার । ত্বক মসৃণ রাখতেও আপেল গুণাবলী বলে শেষ করা যায় না । গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রতিদিন আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয় ।

হজম ক্ষমতা বাড়াতে

আপেলের শর্করা শক্তির উৎস । এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্ত শর্কারা মাত্র স্থিতিশীল থাকে । প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় পেটে ফলে হজম শক্তি বাড়ে ।

বাতের ব্যথা দূর করতে

আপেলের ম্যালিক এসিড শরীরের ইউরিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে বাতের ব্যথা দূর করতে পারে । তাই আপেল বাতের ব্যাথা দূর করতে অনেক উপকারী  ।

পানি শূন্যতা দূর করতে

আপেলে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে ফলে আপেল খেলে তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতা দূর হয় । শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে আমাদের পানি-শূন্যতা পূরণ করতে আপেলের জুড়ে নেই ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

ব্যক্তির পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে । পেকটিনি সেলুনের পরিমাণ ঠিক রাখতে পারে যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে । তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেলের কোন অসুবিধা নাই ।

গলস্টোন সারাতে সাহায্য করে

পিত্তথলির মধ্যে অতি পরিমানে কোলেস্টেরল জমে গেলে তখন গলস্টুন হয় । গলস্টুন কমানোর জন্য ডাক্তাররা সবসময় ফাইবার সমুদ্র ফল খাওয়ার উপদেশ দেন । সে ক্ষেত্রে আপেলের কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে ।

রক্তচাপ কমাতে

আপেলে থাকা পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম আঁশ যা রক্তচাপ কমাতে অনেকভাবে সাহায্য করশ।

আরো পড়ুনঃ কাঁচামরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন

হার শক্ত করতে

আপেলে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরন যা হারকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে ।

ডায়রিয়া দূর করতে

আপনি কি সারাদিন বারে বারে বাথরুমে যেতেই থাকেন ? কোন কিছু খেলেই বাথরুমে দৌড়াতে হয়? যখন বাথরুমে গেলেন তখন দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় ? অথচ যদি পেট পরিষ্কার হয় না ? তাহলে নিয়মিত আপেল খান যা প্রয়োজন অনুযায়ী বর্জ্য থেকে অতিরিক্ত জল টেনে রাখতে পারে ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত বারবার বাথরুমে যেতে হয় না তেমনি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে সেই সঙ্গে ডায়রিয়া সমস্যা দূর করে ।

আপেল খাওয়ার অপকারিতা

  • কারো যদি ফুকটুজের এলার্জি থেকে থাকে তাহলে অতিরিক্ত আপেল খেলে বদহজম কিংবা বমি বমি ভাব হতে পারে ।
  •  আপেল অন্তত পুষ্টিকর একটি খাবার হওয়ায় গর্ভবতী মা ও স্তন পান করন মহিলাদের ক্ষেত্রে আপেল খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত ।
  • রাতে এবং সন্ধ্যার পর আপেল খেলে গ্যাস হয় এবং পেট ফাঁকা ফাঁকা লাগতে পারে । ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ।

আপেল খাওয়ার নিয়ম

আপেল খেতে হবে ভালোভাবে চিবিয়ে তাহলেই হজম শেষে এর উপাদান নিতে পারবে শরীর । ভালোভাবে না চিবিয়ে টুকরো টুকরো আপেল গিলে ফেলে সেইটুকু গলাতে পাকস্থলীকে প্রচুর ব্যাগ পেতে হয় । এতে পেট ব্যাথা হতে পারে আপেল চিবিয়ে খাওয়ায় দাঁত পরিষ্কার হয় । খালি পেটে আপেল খাওয়া উচিত নয় । তাহলে আপেলে থাকা এসিডের কারণে বদ্ হজম হতে পারে । আর খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে আপেল ।


আপেলের পুষ্টিগুণ

আপেলকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ফলগুলির একটি মনে করা হয় । আপেলে প্রায় 86 শতাংশ জলে ভরা । এতে ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মত বিভিন্ন খনিজ রয়েছে  আপেলের সমৃদ্ধ ভিটামিন এ ,সি  এবং কে এতে নগণ্য পরিমাণে চর্বি থাকে । ইউ এস বি এ পুষ্টির ডাটাবেসের উপর ভিত্তি করে ১০০ গ্রাম আপেলের নিম্নলিখিত পরিমাণ গুলি থাকে-
  • পানি 85.56 গ্রাম
  • শক্তি ৫২ কিলো ক্যালরি
  • প্রোটিন ০.২৬ মিলিগ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট ১৩.৫১ মিলিগ্রাম
  • ফাইবার দুই দশমিক চার মিলিগ্রাম
  • চিনি ১০.৩৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম
  • লোহা শূন্য দশমিক 12 মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম ৫ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস ১১ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম ১০৭ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম 1 মিলিগ্রাম
  • জিংক ০.৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ তিন মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি১ 0.70 মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি২ ০.২৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৬ ০.৪১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি ৪.৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন কে ২ দশমিক২ মিলিগ্রাম

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে আপেলের ঔষধি গুনাগুন/উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আরো আলোচনা করেছি যে আপেলের পুষ্টিগুণ এবং আপেল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে । তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url