খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা/অপকারিতা জেনে নিন

 খেজুর সাধারণত মরু অঞ্চলের ফল এটি খুবই পুষ্টিকর একটি ফল । পুষ্টি মানে যেমন এটি সমৃদ্ধ তেমনি ওর অসাধারণ ঔষধি গুন রয়েছে । প্রিয় পাঠক নিচে আমরা আলোচনা করব খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও খেজুর খেলে কি কি রোগ ভালো হয় এবং খেজুরের অপকারিতা নিয়ে ।

আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আজকে আর্টিকেলের বিষয়বস্তু ।

পেজ সুচিঃ খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিত/অপকারিতা জেনে নিন

  • ভূমিকা
  • খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা
  • খেজুর খাওয়ার অপকারিতা
  • শেষ কথা

ভূমিকা

অনেকে মনে করে শুধু রোজাতেই মনে হয় খেজুর খেতে হয় । কিন্তু খেজুরের মধ্যে যে কত গুণ তা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা । রোজা রাখার সাথে খেজুরের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে বছরের অন্যান্য সময়ে আমরা অনেকে খেজুর খাইনা । আর এজন্যই আমাদের ঘরে সাধারণত খেজুর জিনিসটি একটু কমানো হয় । সেই কারণে রমজান মাসে বাদে আমরা খেজুর খাওয়ার অভ্যাসটা একটু কম হয়ে

 থাকে । কিন্তু অসাধারণ পুষ্টিগুনে ভরপুর এই খেজুরের আমাদের শারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী । এক একটি শারীরিক সমস্যার জন্য এক একটি পরিমাণের খেজুর প্রতিদিন খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । আর তাই ঘরে প্রত্যেকদিন পাঁচটি খেজুর খাওয়া অভ্যাস রাখা উচিত । তাহলে হাজারো ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিমিষেই । যৌনশক্তির সাথে খোরমা

 ও খেজুরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে । অনেকে হালুয়া তৈরিতে ব্যবহার করে থাকেন । চিকিৎসা বিজ্ঞানী অনেক জায়গায় কোর্মা খেজুরের ব্যবহার যৌন শক্তির জন্য উপকারী বলা হয়েছে । এছাড়াও এই ফলটিতে রয়েছে প্রাণঘাতী রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা ।

আরো পড়ুনঃলাল শাকের উপকারিতা - পুই শাকেরউপকারিতা

খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা

প্রিয় পাঠক আমরা আলোচনা করব খেজুরের ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে আপনি যদি নিচের অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পারবেন তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক খেজুরের ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যঃ

  • ভিটামিন এর সমৃদ্ধ এই ফলটি দৃষ্টিশক্তি জন্য গুরুত্বপূর্ণ । খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান থাকাই অনেক রোগ নিরাময় করা সম্ভব । সাথে সাথে আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে ।
  • খেজুরের মধ্যে অনেক গুন রয়েছে যা ত্বকের জন্য খুবই ভালো । খেজুর নিয়মিত খেলে ত্বকে উজ্জ্বলতা ভাব ফিরে আসে ।
  • খেজুরের চূর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয় ।
  • খেজুর পেটের গ্যাস , কফ দূর করে শুকনো কাশি এবং এজমার উপকারী  ।
  • সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় । খেজুর সেটা দ্রুত পূরণের সাহায্য করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবসকারী রোগের জন্য খেজুর খুবই উপকারী ।
  • সাত-আট মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য । এ সময় গর্ভবতী মায়ের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে ।তখন খেজুর মায়েদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকার ।
  • মুখের লালা কে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মেশাতে সাহায্য করে খেজুর । ফলে বধ হজম দূর হয় হৃদরোগ কমাতেও খেজুর বেশ উপকারী ।
  • ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগর্ভের ক্যান্সার রোধ করে এই খেজুর ।
  • আত্মসত্তা নারী সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংস পেশি দ্রুত সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে প্রসব হতে সাহায্য করে ।
  • দুর্বলতা কাটাতে অনেক সাহায্য করে এবং ডেলিভারির পর মায়েদের অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতেও খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকে দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।
  • দেহকে সচল ও কার্যক্রম রাখতে শক্তির প্রয়োজন । এর অভাবে দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয় । এসব ক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাদ্য শক্তি উৎস হিসেবে কাজ করে । আর এই শর্করা জাতীয় খাদ্য হিসেবে খেজুর খাদ্য শক্তির উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে ।
  • খেজুরে রয়েছে 77.5% কার্বোহাইডেট যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করে ।
  • খেজুর বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে । যেমন খেজুর লাংস ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে ।
  • নারীদের শ্বেতা প্রদহ ও শিশুর রিকেট  নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা অনেক । এক্ষেত্রে খেজুরের অবদান বলে শেষ করা যায়নি ।
  • তুলনামূলকভাবে শক্ত হুজুরকে পানিতে ভিজিয়ে সারারাত সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় । তাজা খেজুর নরম এবং মাংসল যা সহজেই হজম হয় ।
  • খেজুরে আছে ডায়েটের ওই ফাইবার যা কোলেস্টেরল থেকে মুক্তি দেয় । ফলে ওজন বেশি বাড়ে না সঠিক  দেহকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা যায় ।
  • খেজুর রক্ত তৈরিতে বড় একটি কারখানা । সুতরাং খেজুর খাওয়াটা প্রয়োজন । খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত ।
  • খেজুরের প্রচুর খাদ্য উপাদান রয়েছে । যার ফলে দেহের অনেক রোগ নিরাময়ের সাথে সাথে সবল  ফিরে আসে ।
  • খনিজ পদার্থ দৈহিক পুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে । খেজুর দেহে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে ।
  • খেজুর লৌহ সমৃদ্ধ ফল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে রক্তে লোহিত কণিকার প্রধান উপাদানের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় । খেজুর লৌহ সমৃদ্ধ বলে এই রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে ।
  • খেজুর দৃষ্টি শক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক । এবং প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রাত কান্নার রোগ ভালো করতেও সাহায্য করে থাকে ।
  • মুখের ঘা পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবসকারী রোগের জন্য উপকারী । খেজুর বিচিত্র রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে ।
  • পাতলা পায়খানা বন্ধ করে খেজুর খাওয়ার ফলে ।
  • খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে । খেজুর  কোরমা খাইলে মাথাকে একেবারে চিন্তা মুক্ত করে দেয় ।
  • ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দেয় খেজুর । সুতরাং খেজুর আমাদের প্রত্যেকের খাওয়া উচিত ।
  • সুস্থ হৃদপিন্ডে দেহ যন্ত্রের স্বাচ্ছন্দ এবং সতেজ বিধান করে এমন শক্তিদায়ক বা বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে খেজুরের জুড়ি নেই ।
  • প্রতি 100 গ্রাম খেজুরে ৩২৪ মিলিগ্রাম ক্যালরি থাকে । কেনরির পরিমাণ বেশি থাকে তাই খেজুর শিশুদের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল ।
  • খুদা নিবারণের বিকল্প খাদ্য হিসেবে আমরা দুই থেকে চারটি খেজুর খেয়ে এক গ্লাস পানি পান করতে পারি ।
  • খেজুরে রয়েছে ৬৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৭.৩ মিলিগ্রাম লৌহ যা হার , দাত , নখ , ত্বক , চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে  ।
  • স্নায়বিক শক্তি বৃদ্ধিতে খেজুর উপকারী । এজন্য শিশুদের খেজুর খেতে দিতে হয় ।
  • হৃদপিন্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরী । গবেষণায় দেখা যায় পুরো রাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগীর সুস্থতার কাজ করে।
  • খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের নার্ভ সিস্টেম কি সচল রাখার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় । গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে খেজুরের মধ্যে প্রায় 400 মিলিগ্রাম পটাশিয়াম বিদ্যমান থাকে যা মানুষের স্ট্রোক হওয়ার ভয়াবহ তাকে 40% কমিয়ে দেয় ।
  • খেজুর হৃদরোগ জ্বর ও পেটের পীরাই উপকারী এবং বলবর্ধক  ঔষধ হিসেবে কাজ করে । বিশেষ করে হৃদরোগীদের জন্য খেজুর বেশ উপকারী ।
  • খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে । রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে । যাদের এই রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অভ্যাস করা উচিত । তাই রক্তস্বল্পতা ও শরীরের ক্ষয় রোধ করতে খেজুরের রয়েছে বিশেষ গুণ ।
  • একটি গবেষণায় দেখা যায় প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে লিপিডের কোয়ালিটি উন্নত করতে সহায়তা করে দেহের সুগারের মাত্রা বাড়ানো ছাড়াই ।
  • শর্করা কেলোরি ও ফ্যাট সম্পন্ন খেজুর জ্বর  , মূত্রথলির ইনফেকশন , যৌন রোগ , গানিয়া ও কন্ঠনালী , ন ব্যাথা বা ঠান্ডা জনিত সমস্যা শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে ব্যাস কার্যকারী ।
  • নেশাগ্রস্তদের অঙ্গ ক্ষয় প্রতিরোধে কাজ করে খেজুর । স্বাস্থ্য ভালো করতে বাড়িতে তৈরি গিয়ে বাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন ।
  • গবেষণায় দেখা যায় প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আমাদের দেহের ইন্টেস্টাইনের এর ভেতর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো প্যাথলজিক্যাল অর্গানিজমের উপাদান বৃদ্ধি করে যা ইন্টেস্টাইনের নানা সমস্যা দূর হয় । 
  • খেজুর  লেক্সাটিভ ধরনের খাবার ।  যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তারা খুব সহজে কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন । প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব ।
  • খেজুরের মধ্যে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো এসিড যা সহজে খাবার হজমের সহায়তা করে । এতে করে খাবার হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
  • খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব অল্প পরিমাণের সোডিয়াম । এতে করে প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কামায় এবং ভালো কোলেস্টের মাত্রা বৃদ্ধি করে  অর্থাৎ প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমায়।
  • রুচি বাড়াতেও খেজুরের কোন তুলনা হয় না । অনেক শিশুরা তেমন একটা খেতে চাই না তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসবে ।  

খেজুর খাওয়ার অপকারিতা

প্রিয় পাঠক উপর আমরা আলোচনা করেছি খেজুরের ঔষধি গুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে । নিচে আমরা আলোচনা করব খেজুর খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক খেজুর খাওয়ার অপকারিতা বিষয়বস্তুগুলো ঃ
  • অতিরিক্ত মাত্রায় খেজুর খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে ।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় খেজুর খাওয়ার ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । কারণ খেজুরের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণে পটাশিয়াম ।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় খেজুর খাওয়ার ফলে বদহজম হতে পারে পেটের বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে ।
  • কিছু ব্যক্তির খেজুরের প্রতি এলার্জি হতে পারে বা সেগুলি খাওয়ার পরে এলার্জি প্রতিক্রিয়া হতে পারে ।
  • খেজুরে আঠালো এবং প্রাকৃতিক সরকার বেশি থাকে যা দাঁতের ক্ষয় হতে পারে যদি সঠিক মৌখিক স্বাস্থ্যবিধে অনুসরণ না করা হয় । নিশ্চিত করুন যে আপনি খেজুর খাওয়ার পরে আপনার দাঁত ব্রাশ করেছেন ।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক উপরে আমরা আলোচনা করেছি যে খেজুরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে । আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন । তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url