আমের ঔষুধি গুনাগুন ও উপকারিতা - অপকারিতা জেনে নিন


আম আমাদের ফলের রাজা আম ভালবাসা না এমন মানুষ দেখা পাওয়া খুব কঠিন আর সাধের কথা কি বলবো ? কেউ কেউ তো একদিকে উপরে গিয়ে বলে ফেলেন আমকেই দেশের জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করতে । কাঁচা পাকা আমের পাশাপাশি এই গাছের পাতাও আছে বেশ কিছু ঔষধি গুনাগুন এবং উপকারিতা এবং অপকারিতা ।

কাঁচা আম যেন রান্না করে খেতে মজা তেমনই মধুময় পাকা আমের স্বাদ । তবে মধুময় ফলটি শুধু স্বাদেই নয় গুণেও অনন্য ।

কনটেন্ট সূচিপত্রঃআমের ঔষুধি গুনাগুন ও উপকারিতা - অপকারিতা জেনে নিন

আমের ঔষুধি গুনাগুন ও উপকারিতা

প্রিয় পাঠক নিচে আমরা আলোচনা করব আমের ঔষুধি গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে আপনি যদি মনোযোগ সহকারে নিচের অংশটুকু পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পারবেন আমের ঔষুধি গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আমির ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য -

  • অনেকেই বলেন যে আম খেলে ওজন বাড়ে তা হয়তো কিছুটা বাড়তে পারে কবে ওজন বাড়ানোর জন্য খেতে হবে বেশি পরিমাণ আম । মজার ব্যাপার হলো ওজন বাড়লেও কোলেস্টেরল কমে যায় আম খেলে । আমি আছি উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি সেই সাথে আছে আরো ফাইবার ও ফলের শাস কাজ যা সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় , বিশেষ করে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল যেমন কম গণতের লাই প্রোটিন এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ।
  • আমের মধ্যে আছি এনটিঅক্সিডেন্টের যা কিনা ক্যান্সার প্রতিনিধি সহায়তা করে।স্তন , লিউকেমিয়া , কোলনসহ প্রোটেস্ট ক্যান্সারকেও প্রতিরোধে সহায়তা করে আম । এতে  প্রচুর পরিমাণ এনজাইম পাওয়া যায় ।
  • আম ত্বকের যত্নেও অনেক উপকারী ওই মজাদার ফলটি । আপনি জানেন কি ? এক কাপ আম আপনার জন্য দিনের ভিটামিনের চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশে যোগান দিতে পারে । ভিটামিন এ চোখের জন্য খুব উপকারী এটি চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ হওয়া থেকে রক্ষা করে ।
  • মজার কথা হলো ডায়াবেটিস রোগীদের আম খেলে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও আম গাছের পাতায় কিন্তু রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে । এজন্য কিছু আম পাতা নিয়ে ভালো করে পানিতে জাল দিয়ে সারা রাত রেখে দিন । পরদিন সকালে উঠে এই পানি পান করুন ব্যাস এতটুকুই সাহায্য করবে রক্তে চিনির পরিমাণ ঠিক রাখতে ।
  • অনেকের এই ধারণা আছে যে ফলমূলের মাঝে শুধুমাত্র পেপেই হজম শক্তির জন্য ভালো ।  কিন্তু না পেঁপের মত আমেও আছে প্রয়োজন এনজাইম যা শরীরের প্রোটিন অনুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি সহায় করে ।
  • এছাড়া আমে  আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি । সেই সাথে আছে আরো প্রায় ২৫ রকমের ভিটামিন কেরোটিন যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে রাখবে সুস্থ সবল ।
  • সেই জাতি এই ফলে পাওয়া যায় টারটারিক এসিড , ম্যালিড এসিড ও সাইট্রিক এসিড যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই ।
  • শুধু স্বাদেই মজাদার নয় বরং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আমাদের প্রিয় ফল আম । কাঁচা বা পাকা সব রকমের আম আপনাকে দিবে স্বাদের পাশাপাশি সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা । 

আমের অপকারিতা

প্রিয় পাঠক উপরে আমরা আলোচনা করেছি যে আমির ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে আপনি যদি উপরের অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় জানতে পেরেছেন আমির ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করব আমের অপকারিতা সম্পর্কে তাই আপনি যদি আমি অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে নিচের অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ুন । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আমির অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য -

  • আম খেলে বাড়তে পারে এলার্জি কারণ আম এলার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে বিশেষ করে যদি কেউ সিনথেটিক উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল হয় । কারণ আমে প্রোটিন লেকটেক্স এর মত উপাদান রয়েছে যা এলার্জি আছে এমন কারো জন্য অস্থির কারণ হতে পারে ।
  • মিষ্টি এবং সুস্বাদু এই ফলে উচ্চ প্রাকৃতিক চিনি থাকার কারণে এটি দ্রুত চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে । বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাকৃতিক চিনি ও ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য জীবনযাত্রা ব্যাধির ক্ষেত্রে সাধারণ চিনির মতোই কাজ করতে পারে । তাই আম খাওয়ার সময় এর পরিমাণ এর দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে ।
  • বিভিন্ন জাতের আমের ফাইবার কম থাকে কারণ বীজ এবং খোসায় সর্বাধিক পরিমাণে ফাইবার থাকে , যা সাধারণত খাওয়া হয়না । যে কারণেই হজম প্রক্রিয়ার সাহায্য নাও করতে পারে । তাই হজম প্রক্রিয়াকে মুসলিম করতে আমের সাথে ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করার বলা হয়েছে ।
  • একসঙ্গে অনেকগুলো আম খেলে ওজন বাড়তে পারে এর কারণ হলো অন্যান্য খাবারের তুলনায় আমে ফাইবার কম প্রাকৃতিক শর্করা পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি বেশি যা ওজন বাড়াতে পারে ।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত আম খেলে তা পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে । কারণ এতে গাজনযোগ্য কার্বোডিট রয়েছে , যা ইরিটেবল ভাওয়েল সিন্ড্রোম আই বি এস বাড়াতে পারে এবং পাচনতন্ত্র কে বিপর্যস্ত করতে পারে ।

আমের পুষ্টিগুণ

দিয়ে পাঠক ওপরে আমরা আলোচনা করেছি যে আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আরো আলোচনা করেছি যে আমের অপকারিতা সম্পর্কে আপনি যদি উপরের অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন । নিচে আমরা আলোচনা করব আমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য -

 পাকা আমের ক্যারোটিনের মাত্রা বেশি থাকে । প্রতি 100 গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে । এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন , ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম , ১৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস , ১৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি , ০.৯ মিলিগ্রাম রিভোফ্লেভিন এবং 0.8 মিলিগ্রাম থায়ামিন থাকে । এছাড়াও পাকা আমের চেয়ে ভিটামিন বি ওয়ান ও বি টু । প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ ও 0.7 মিলিগ্রাম ভিটামিন বি -২ রয়েছে । ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ , 1 গ্রাম প্রোটিন , । ০.৭ গ্রাম ফ্যাট , ২০ গ্রাম স্বেতসার পাওয়া যায় । 

শেষ কথা 

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে আমের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে । আরো জানতে পেরেছেন আমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন বা আম সম্পর্কে আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার বক্তব্য পেশ করতে পারেন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url