শ্বাসকষ্ট হলে করণীয় কি -শ্বাসকষ্ট কেন হয় ?

সারা দেশের মধ্যে বায়ু দূষণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ঢাকা শহর । এমন পরিস্থিতির ঢাকাবাসীদের যে ফুসফুসের রোগ বাড়বে তাতে নতুন কথা আর কি হচ্ছে তেমনটা । এছাড়া বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে চলার ফলে দেশব্যাপী গত কয়েক দশকে বাচ্চা থেকে বয়স্ক শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা চোখে পড়ার মতোই বেড়েছে । প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে নিশ্চয় জানতে পারবেন শ্বাসকষ্ট হলে করণীয় কি ?

বায়ু দূষণ ছাড়া আরো নানা কারণে এই রোগ হতে পারে যেমন ফুসফুসে সংক্রমণ খাবার ও এলার্জি প্রবৃত্তি । বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু খাবার চট জলদি অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট কমাতে  দারুন কাজে আসে । ফলে পকেট ফাঁকা করে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই । তাই চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আজকের আমাদের এই আর্টিকেলে আলোচনা গুলি ।
পেইজ সূচিপত্র ঃশ্বাসকষ্ট হলে করণীয় কি -শ্বাসকষ্ট কেন হয় ?
  • আদা
  • সরিষার তেল
  • ডুমুর
  • রসুন
  • কফি
  • মধু
  • পেঁয়াজ
  • শ্বাসকষ্ট কেন হয়
  • শেষ কথা

আদা

গবেষণায় দেখা গেছে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারিতা অক্সিজেন প্রবেশ করে ঠিকমতো । ফলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাসকষ্ট কমাতে শুরু করে । এক্ষেত্রে সম পরিমাণ পরিমাণে আদার রস বেদনার রস এবং মধু মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করতে হবে । এই মিশ্রণটি দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে দেখবেন দারুন উপকার মিলবে ।


সরিষার তেল

একেবারে ঠিক শুনেছেন শ্বাসকষ্ট কমাতে সরিষার তেলের দারুণ কাজে আসে । আসলে এই তেলটি রেসিপিরেটারি প্যাসেজ কে খুলে দেয় । হলে শ্বাস নিতে কোন কষ্ট হয় না । তাই এবার থেকে অ্যাজমা অ্যাটাক হলে অল্প করে সরিষার তেল গরম করে নেবেন । তারপর সেটি অল্প ঠান্ডা করে বুকে পেটে ভালো করে মালিশ করতে থাকবেন । এমনটা করলেই ধীরে ধীরে লক্ষণ কমে যেতে শুরু করবে সঙ্গে কমবে কষ্ট ।

ডুমুর

এতে উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান ফুসফুসের কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে । আর একবার ফুসফুস ঠিক মত কাজ করে শুরু দিলে শ্বাসপ্রসার স্বাভাবিকভাবে শুরু হয় । ফলে শ্বাসকষ্ট দূরে পালায় । এখন প্রশ্ন হলে এমন পরিস্থিতিতে ডুমুরকে কাজে লাগাবেন কিভাবে ? প্রথমে তিনটি ডুমুরকে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন । খালি পেটে সকালবেলা ডুমুর তিনটি খেয়ে ফেলুন ।তাহলে আপনার শ্বাসকষ্ট  কমে যাবে ।

রসুন 

হাফ কাফ দুধে পরিমান মত রসুন ফেলে ভাল করে দুধটা ফুটান ।তারপর হালকা ঠান্ডা করে দুধটা খেয়ে ফেলুন ।এই পানিটা খাওয়ার পর দেখবেন কষ্ট কমতে সময় লাগবে না ।আসলে ফুসফুস যাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারে সেদিকে রসুন নজর রাখে ।ফলে সমস্যা কমতে সময় লাগেনা ।


কফি

কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না তাইতো ? তবে সত্যিই অ্যাজমার প্রকোপ কমাতে দারুণ কাজে আসে । কারণ গরম গরম এক পেয়ালা কফি খেলে যায় । ফলে খুব সহজেই ফুসফুসের অন্ধরে প্রবেশ করে যাই । প্রসঙ্গত একত্রে খুবই যত করা হবে তত উপকার পাবেন । তাই এবার থেকে শ্বাসনীতির সামান্য অসুবিধা হলেই কফি খেয়ে নেবেন । তবে দিন কাফের বেশি কপি কিন্তু ভুলেও খাবেন না । কারণ এই পানি যত উপকারী বেশি মাথায় খেলে কিন্তু শরীরের যতই ক্ষতিকর ।

মধু

অ্যাজমার চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার বহুকাল ধরেই হয়ে আসছে । আসলেই প্রকৃতির উপাদানটি শরীরে রয়েছে বেশ উপকারী উপাদান যা এমন রোগের প্রকোপ কমাতে ধারণ কাজে আসে । এক্ষেত্রে মধুর গন্ধ নিলেও অনেক উপকার হয় । আর যদি এমনটা করে ফল না মেলে তাহলে দিনে তিনবার এক গ্লাস করে গরম জলে এক চামচ করে মধু মিশিয়ে পান করলে দারুন উপকার মিলবে ।

পেঁয়াজ

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রা এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা শ্বাসনালীর প্রবাহ কমিয়ে এজমার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে । প্রসঙ্গত এক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলেই বেশি উপকার মিলে অন্যভাবে নয় কিন্তু । প্রিয় পাঠক উপরে আমরা কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে শ্বাসকষ্ট হলে তা প্রতিরোধ করতে পারবেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি নিচে আমরা আলোচনা করব শ্বাসকষ্ট কেন হয় ।

শ্বাসকষ্ট কেন হয়?

শীতকালে অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় । সর্দি কাশি থেকে অনেক সময় এই সমস্যা দেখা দেয় । আবার হাঁপানি ও এজমা থেকেই সমস্যা দেখা দেয় । শীতকালে হাঁপানি এজমা রোগীদের অসুখ আরো প্রকট আকার ধারণ করে  । শ্বাসকষ্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস নিতে না পারা শ্বাস নিতে সমস্যা রেসটিরাটোরি ডিসটেন্স নামে পরিচিত । এই অনুভূতির কোন শারীরিক বৃত্তীয় করা কারণ না হলেও শ্বাসকষ্টের কারণে এজমা ব্যক্তির এমন অনুভূতি হতে পারে । শ্বাসকষ্ট কেন হয় এটি জানতে চাইলে নিচের অংশটুকু পড়ুন

  • সর্দি লাগলে অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
  • হাঁপানি বা এলার্জি থাকলে
  • শিশুদের যাদের এড নয় এড সমস্যা থাকে তাদের শ্বাসকষ্ট হয়
  • অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপ নিয়ে থাকলে
  • সাইনোসাইটিস , হার্ট ফেলিওর , নিমোনিয়া ইত্যাদি রূপ দেখা দিলে 
  • ক্রনিক অফ স্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস সিইওপিডি । এছাড়াও বহুবিধ কারণে শ্বাসকষ্টের অনুভূতি হতে পারে
  • জ্বরসহ বেশ কিছু শারীরিক রোগের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলুর দহন বা মেটাবলিজমলিজম বেড়ে যাওয়ার জন্য নিঃশ্বাসের হার বেড়ে যায় ।
  • হাইপার বেন্টিলেশন সিনড্রোম এর কারণটাও যদি খুব স্পষ্ট নয় , তবে এটা সঙ্গে উৎকণ্ঠা আর এক ধরনের ভয় পাওয়া রোগের সম্পর্ক আছে। সেই অর্থে এটা মনের রোগ ।
  • গোমানোর জন্য বিছানায় শোবার পর কিছু ব্যক্তি শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় ।
  • নাকের সমস্যার কারণে অনেক সময় শ্বাসকষ্ট হয় ।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে শ্বাস করতে পারে করণীয় কি এবং শ্বাসকষ্ট কেন হয় । উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনি যদি সামান্য কিছু উপকার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাদের এই তথ্যবহুলার টিকিট যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট করবেন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url