টমেটো চাষ পদ্ধতি-টমেটোর পুষ্টিমান সম্পর্কেজেনে নিন

 আজকে আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করব টমেটো চাষ পদ্ধতি ও টমেটোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । সারা বিশ্বে টমেটোর চাষ করা হয় । অধিকাংশ দেশেই টমেটো অন্যতম প্রধান সবজি । টমেটো কাঁচা পাকা এবং রান্না করে খাওয়া হয় । প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ টমেটো সস , খেচাপ , চাটনি , জুস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার হয় । আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পারেন তাহলে আর জানতে পারবেন টমেটোর জাত সমূহ সারা বছরে চাষের উপযোগী জাত চারা তৈরির জমি তৈরি চারা রোপনের দূরত্ব সারের পরিমাণ সার প্রয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি আরো অনেক কিছু ।


টমেটোর কদর মূলত ভিটামিন সি এর জন্য । তবে এর রঙ রূপ ও স্বাদ অনেকে আকৃষ্ট করে । সালাত হিসেবে অধিকাংশ টমেটো খাওয়া হয় । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আমাদের পরবর্তী আলোচনাটুকু । আপনারা এই আর্টিকেলে যা যা জানতে পারবেন-

পেজ সূচি ঃ টমেটো চাষ পদ্ধতি-টমেটোর পুষ্টিমান সম্পর্কেজেনে নিন

  • টমেটোর পুষ্টি মান সম্পর্কে জেনে নিন
  • টমেটোর জাতসমূহ
  • চারা তৈরি
  • জমি তৈরি
  • সারের পরিমাণ
  • ফসল সংগ্রহ ও ফলন
  • শেষ কথা

টমেটোর পুষ্টিমান সম্পর্কে জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আপনারা এখন জানতে পারবেন যে টমেটোর পুষ্টিগুন সম্পর্কে ।টমেটো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি । প্রতি 100 গ্রাম আহারে উপযোগী অংশে যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হলো -পানি 93.1 গ্রাম , প্রোটিন ১.৯ গ্রাম , চর্বি ০.১ গ্রাম , খনিজ ০.৬ গ্রাম , আঁশ ০.৭ গ্রাম , শর্করা ৩.৬ গ্রা্‌ম , সোডিয়াম ৪৫.৮ মিলিগ্রাম , পটাশিয়াম ১১৪ মিলিগ্রাম , কপার ০.১৯ মিলিগ্রাম , সালফার ২৪ মিলিগ্রাম , ক্লোরিন ৩৮ মিলিগ্রাম , ভিটামিন এ ৩২০ অনজার্তিক একক , থায়ামিন 0.7 মিলিগ্রাম , রিবোফ্লাবন 0.1 মিলিগ্রাম

 , নিকোটিনিক এসিড ০.৪ মিলিগ্রাম , ভিটামিন সি ৩১ মিলিগ্রাম , ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম , অক্সালিক এসিড ২ মিলিগ্রাম , ফসফরাস ৩৬ মিলিগ্রাম এবং লৌহ আছে ১.৮ মিলিগ্রাম , টমেটোর পুষ্টির পাশাপাশি  ভেষজমূল্য আছে । এর শ্বাস-বুজ হজমকারক এবং খোদাবর্তক । টমেটো রক্ত শোধক হিসেবেও কাজ করে । উপরে আমরা আলোচনা করেছি টমেটোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে এবং আপনারা নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে টমেটোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । নিচে আমরা টমেটোর জাত সমূহ নিয়ে আলোচনা করব ।

টমেটোর জাতসমূহ

এদেশে এখন মৌসুমে ও অমৌসুমে প্রচুর পরিমাণে টমেটো চাষ হচ্ছে । শুধু আমাদের দেশেই নয় , সারা বিশ্বের সবজি ফসলের মধ্যে আলো ও মিষ্টি আলোর পরেই সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় টমেটো । কেননা টমেটোর অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি । কাঁচা ও পাকা উভয়ই দেহের জন্য উপকারী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বাড়ি) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ ট (বিনা )বেশ কিছু টমেটোর

 জাত উদযাপন করেছে যেগুলো যেকোনো সময় চাষ করা যায় । এছাড়া কিছু হাইব্রিড জাত এ দেশে আসতে সারা বছরই টমেটো চাষ হচ্ছে । তবে দেশেও বেশ কিছু আধুনিক উচ্চ ফলনশীল  জাতের টমেটো উদযাপন করা হয়েছে যেগুলো ভালো ফলন দিচ্ছে । সব মিলিয়ে এদেশে এখন পঞ্চাশের উপরে টমেটোর জাত আছে । এর বেশিরভাগই হাইব্রিড জাত । বছরে যে কোন সময় ভালো ফলন দেয়ার জন্য

 দিন দিন হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে । দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে গ্রীষ্মকালে একটু মুঠো চাষের প্রবণতা বেড়েছে । কোন জাত চাষ করলে বেশি লাভ হবে সে বিষয়টা এখন নির্ভর করছে মৌসুম ও বাজার দরের উপর । তবে ভরা মৌসুমীর চেয়ে আগাম বা নাভিতে এবং গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ করে বেশি লাভ করা সম্ভব । মৌসুম অনুযায়ী এদেশের চাষযোগ্য টমেটো জাতসমূহকে মোটামুটি ভাবে নিম্নলিখিত শ্রেণী সমূহে ভাগ করা যেতে পারে -

আগাম জাত

এসব জাত শীতকালেই হয় তবে আগাম ফলে । আগাম জাত সমূহের বীজ বপন করা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে । আগাম জাতসময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাড়ি টমোটো 4 , বাড়ি টমটু ৫্‌, রমা বিএফ , রোমিও , টিপু সুলতান , গ্রেট পেলে , ডেলটা এফ ওয়ান , উন্নয়ন এফ ১ , প্রসারুবি , নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি ।

ভরা মৌসুমে জাতসমূহ

শীতকালে স্বাভাবিক সময়ে এসব জাতির গাছের ফল ধরে । সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বনে অক্টোবর নভেম্বর এসব জাতির টমেটো চারা রোপন করা হয় । অধিকাংশ জাতই শীতকালে ফলে । এসব জাতের মধ্যে মানিক , রতন , বাড়ি টমেটো তিন্‌ , বাড়ি টমেটো সাত , বাড়ি টমেটো নয় , বাহার ইত্যাদি জাতকে বেছে নেয়া যেতে পারে । নাবি শীত মৌসুমীর জাত এসব জাতের বীজ বলতে হয় জানুয়ারিতে ফল পাওয়া যায় মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত । বাহার  ,বোমা , বিএফ , রাজা  ,সুরক্ষা ইত্যাদি জাত নাভিচাসের জন্য ভালো ।

সারা বছর চাষের উপযোগী জাত

বছরে যেকোনো সময় টমেটো বীজ বললে চারা ও সেসব চারা লাগানো গাছ হয় সত্য এমনকি যেসব গাছে ফুলও আসে । কিন্তু সব জাতের গাছে ফল ধরে না । এজন্য সারা বছর চাষের উপযোগী জাত যেমন বাড়ি টমেটো ছয় চাষ করা যায় ।

চারা তৈরি

সরাসরি জমিতে বীজ বনেও টমেটো চাষ করা যায় । তবে দ্রুত ফলন পাওয়ার জন্য আলাদাভাবে তারা তৈরি করে সেই চারা মূল জমিতে লাগাতে হবে । এজন্য রোড যুক্ত উচু জায়গা পরিষ্কার করে ভালোভাবে মাটি চার্জ দিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হবে । এজন্য চাষের উপর মাটির সমান্তরাল করে এক লিটার চওড়া করি ব্যাড বানাতে হবে । ব্যাট খুব বেশি লম্বা না করে তিন থেকে পাঁচ মিটার লম্বা করা ভালো । এতে পরিচর্যায় সুবিধা হয় । ছিটিয়ে বীজতলায় বীজ বপন করা যায় । ছিটিয়ে বীজ বপনের জন্য সাধারণত প্রতি বর্গমিটার ২০ তোলার জন্য ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম বীজ লাগে । শীতকালীন টমেটো চাষের জন্য বীজ বলতে হবে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে । আগাম চাষের জন্য শ্রাবণ ভাদ্র মাসে 20 বলতে হয় ।

জমি তৈরি

জমি চার থেকে পাঁচ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটির ঝুরঝুরা করে নিতে হবে । গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের জন্য ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার উঁচু এবং 230 সেন্টিমিটার চওড়া ভ্যাট তৈরি করতে হবে । সেচ দেওয়ার সুবিধার্থে দুইটি বেটির মাঝখানে ৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হবে ।

চারা রোপনের দূরত্ব

প্রতিটি বেডের দুই শাড়ি করে 30 ইনটু 40 সেন্টিমিটার দূরত্বে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হয় ।

সারের পরিমাণ

টমেটো উৎপাদনের জন্য হেক্টর প্রতি নিম্নরূপ সার প্রয়োগ করতে হয় তবে মাটির পরীক্ষা করে সার সুপারিশ উত্তম । স্যারের নাম সারের পরিমাণ কেজি শতক সারের পরিমাণ কেজি হেক্টর ইউরিয়া ২.০ থেকে ২.৪ ৫০০ থেকে ৬০০ টি এস পি ১.৬ থেকে ২.০ ৪০০ থেকে ৫০০ , এমওপি 0 হারে 200 থেকে 300 গ্রাম , গোবর ৩০ থেকে ৪৫ হারে ৮ থেকে ১২ টন ।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

অর্ধেক গোবর সার ও সবটুকু টিএসপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে । অবশিষ্ট গোবর চারা লাগানোর পূর্বে গর্ত করে প্রয়োগ করতে হবে । এরপর চারা লাগানোর তৃতীয় সপ্তাহে ও পঞ্চম সপ্তাহে রিং পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে হবে । গার্তি থাকলে জিপসাম  ,জিন সালফেট , বুড়িকে এ সিট পাউডার এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার প্রয়োগ করতে হবে ।

অন্তবত্তাকালীন পরিচর্যা

মরা পাতা ছাটাই সহ আকৃতি বাসের খুঁটি টমেটো গাছের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি কাজ । এ ছাড়া প্রয়োজনের সেচ দেওয়া যেতে পারে । ভাইরাস রোগ দেখা দিলে গাছ তুলে ফেলতে হবে । অন্যান্য রূপ পত্রিকার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে । তেমনি পোকামাকড় দেখা দিলেও সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে । 

ফসল সংগ্রহ ও ফলন

জাত ও লাগানোর সময়ে উভয় নির্ভর করে দুই থেকে চার মাসের মধ্যেই ফসল তোলার সময় হয় । টমেটো পাকা ও কাঁচা উভয় অবস্থায় তোলা যায়। তবে দূরে পাঠানোর জন্য একেবারেই পাকা টমেটো তোলা উচিত নয় এবং পাকানোর জন্য কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারও ঠিক নয় । প্রতি হেক্টরে ফলন ২০ থেকে ৪০ টন ।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে টমেটো চাষ পদ্ধতি এবং টমেটোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আরো জানতে পেরেছেন যে টমেটো কি কি পরিচর্যা করা লাগে এবং কি কি সার প্রয়োগ করা লাগে কিভাবে চারা রোপন করা হয় সারের পরিমাণ কি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে । তথ্যবহুলে আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট করবেন ।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url