কাঁচা পেঁপের গুনাগুন ও রোগব্যাধিতে পেঁপের উপকারিতা

 বাংলাদেশে এমন কোন জায়গা পাওয়া যাবে না যেখানে পেঁপে পাওয়া যায় না ।  পেঁপে খুবই উপকারী একটি সবজি বা ফল আমাদের শরীরের জন্য কাঁচা অবস্থায় পেঁপে সবজি আর পাক অবস্থায় ফল । যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয় তারা পেঁপে খেতে পারেন । অন্যান্য ফলের তুলনায় পেপেতে  কেরোটিন অনেক বেশি থাকে । কেলোরির পরিমাণ বেশ কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনাইয়াসে । এই ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এওসি আছে । এই ফলে কোন ক্ষতিকার উপাদান নেই ।

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য মিষ্টি খাওয়া হারাম । কিন্তু আমাদের দেশ অত্যন্ত সহজলভ্য একটি ফল পেতে যা মিষ্টিয়ালের ডায়বেটিস রোগীরা খেতে পারেন । চোখের সমস্যা বা সর্দি কাশি সমস্যা থাকলে পেঁপে খেতে পারেন কাজে দিবে । যারা হজমের সমস্যায় ভুগেন তারা পেপে খেলে উপকার পাবেন । এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে পাশাপাশি হাইপার টেনশন কমায় অনেকখানি । শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়  পেঁপে ।

পেজ সুচিঃ কাঁচা পেঁপের গুনাগুন ও রোগব্যাধিতে পেঁপের উপকারিতা 


১. কাঁচা পেঁপে শরীরের জন্য খুব উপকারী । এতে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম । এই উপাদানটি প্রোটিন হজম করতে সাহায্য করে । ক্যান্সার নিরাময় ও ভূমিকা রাখে এজন্য পেঁপে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খাওয়ার টাই উত্তম ।

২.কাঁচা পেঁপে খেলে মেদ কমে এতে কোন খারাপ কোলেস্টেরল চর্বি বা ফ্যাট নেই । মোটা মানুষ দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে খেতে পারেন ।

৩.কাঁচা পেঁপে আমাদের দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহের কাজ করে । আমাদের দেহে জমে থাকা সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে যা হৃদপিন্ডের রোগের জন্য দায়ী । নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্তচাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যেকোনো সমস্যার সমাধান হয় ।

৪.কাঁচা পেঁপে কুষ্ঠ কাঠিন্যের মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে । কাঁচা পেঁপে এবং কাঁচা পেঁপের বিচির মধ্যে রয়েছে এন্টি এমবিক এবং এন টি প্যারাসিটিক উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় সমাধান করতে সক্ষম । এছাড়াও হজমের সমস্যা বুক, জ্বালাপোড়, গ্যাসের সমস্যা্পে‌টে ব্যথা , ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও কাঁচা পেঁপে ভালো কাজ করে ।

৫.পেঁপেতে থাকে প্রচুর পরিমান পেপসিন । এই পেপসিন হজমের সাহায্য করে । প্রচুর পরিমাণে পেপেন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে ।  অর্জীণ , কৃমি সংক্রমণ , আলসার , কিডনি , ক্যান্সার , নিরাময়ের কাজ করে । পাকা পেঁপে ফল ও কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায় । পেঁপে কাঁচা কি পাকা দুটোতেই পুষ্টিগুনে ভরপুর ।

৬.ত্বকের যত্নে পেপে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল , তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে । রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে । প্রতিদিন পাকা পেঁপের সাথে মধু ও টক দই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ।

৭.ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে । এসব ব্রণের কারণে মুখে অনেক ধরনের দাগ তৈরি হয় । এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট একটি ফল যার নাম পেঁপে । মুখে অন্যান্য যে কোন দাগ যেমন মেছতা দাদ ও খুব সহজে দূর করে দিতে পারে । মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে ।

৮.অপথ্যালমোলজি আর্কাইভ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিদিন তিনবার পেঁপে খেলে চোখের বয়স জনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় । বয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টি গতির প্রাথমিক কারণ প্রতিদিনের খাবারের তুলনামূলকভাবে কম পুষ্টি গ্রহণ করা । পেপে আপনার চোখের জন্য ভালো এর এনটিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ ,সি,ও ই এর উপস্থিতির কারণে ।

 ১.বদহজমের রোগীদের পাকা পেঁপে খেলে খুব উপকার মিলবে । পাকা পেঁপে খেলে মুখের রুচি বাড়ে সাথে সাথে খিদে বাড়ে তাছাড়া পাকা পেঁপে কোস্ট পরিষ্কার করে এবং বায়োনাস করে । এছাড়াও পেঁপে অশ্ব রোগের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী ।

২. কাঁচা পেঁপের আঠা বীজ কৃমিনাশক । কাঁচা পেঁপের আঠা চিনি বা বাতাসুর সাথে মিলি মিশিয়ে খেলে অশ্ব ও জন্ডিসহ লিভারের নানা রূপ ভালো হয় । এ আঠা প্রতিদিন সকালে 5 থেকে 7 ফোঁটা আটা বাতাসার সাথে মিশিয়ে খেলে অশ্বের রক্ত করা বন্ধ হয় । ব্রণ আঁচিল জীবের গায়ে এই আটা লাগালে খুব উপকার হয় ।

৩. পেঁপে গাছের শুকনো পাতা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে পাকস্থলী স্বাভাবিক ক্রিয়া ফিরে আসে । তবে প্রতিদিন নয় পেটের অসুখ সারাতে হজম শক্তি বাড়াতে একদিন অন্তত অন্তর এক টুকরো পেঁপে সিদ্ধ অথবা পেঁপের তরকারি খাওয়া যেতে পারে । তাই আমরা বাসায় বসে কিছু নিয়ম মেনে চললে কিছু খাদ্য খাবার নিয়মমাফিক খেলে আমরা পেতে পারি সুস্থ সুন্দর পরিপাটি জীবন । 


প্রোটিন ০.৬ গ্রাম ,
ফ্যাট ০.১ গ্রাম ,
মিনারেল 0.5 গ্রাম ,
ফাইবার ০.৮ গ্রাম ,
কার্বোহাইড্রেট ৭.২ গ্রাম ,
খাদ্য শক্তি ৩২ কিলো কিলোরি ,
ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম ,
সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম ,
পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম ,
আয়রন 0.5 মিলিগ্রাম ।


প্রিয় পাঠক পাঠকগণআমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করেছি যে , কাঁচা পেঁপের গুনাগুন ও রোগ ব্যাধিতে পেপের উপকারিতা আরো আলোচনা করেছি প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেপেতে কি কি আছে । আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরা আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই এই বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন । আমাদের এই তথ্যগুলো আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটি ভিজিট করবেন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url