লাভজনক কোয়েল পাখি পালনের- সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন

পলটিতে ১১ টি প্রজাতি রয়েছে তার মধ্যে কোয়েল একটি ছোট আকারের গৃহপালিত পাখি । অন্যান্য পোল্টির তুলনায় কোয়েলের মাংস এবং ডিম গুনাগুণ শ্রেষ্ঠ । অনুপাতিক হারে কোয়েলের ডিমে কোলেস্টেরল কম এবং আমিষ বেশি । তাই আপনারা যদি কোয়েল পালন করতে চান এবং কোয়েল পালন করে লাভবান হতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন । নিচে কোয়েল পাখির লাভবান হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।


একটি মুরগির পরিবর্তে ৮টি কোয়েল পাখি পালন করা সম্ভব । কাজেই বাড়িতে আঙ্গিনায় ঘরের কোণে দশ বিশটা কোয়েল পাখি অতি সহজেই পালন করা যায় । কোয়েল পাখি প্রতিপালন করে পারিবারিক পুষ্টি যোগানের সাথে সাথে অতিরিক্ত কিছু আয় করা সম্ভব । অল্প মূল্যে অল্প জায়গায় কোয়েল পালন করা যায় । তাহলে চলুন দেরি না করে এর সঠিক পদ্ধতি গুলো জেনে নেয়া যাক ।

কনটেন্ট সূচিপত্রঃলাভজনক কোয়েল পাখি পালনের- সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন

  • কোয়েল পালনের সুবিধা 

  • কোয়েলের জাত

  • কোয়েলের প্রজনন

  • বাসস্থা্ন

  • খাদ্য ব্যবস্থাপনা

  • শেষ কথা

  • কোয়েল পালনের সুবিধাঃ

  1. কোয়েল দ্রুত বাড়ে ছয় থেকে সাত সপ্তাহে ডিম পারা শুরু করে এবং বছরে ২৫০ থেকে ২৬০ টি ডিম পাড়ে ।
  2.  ডিমের কোলেস্টেরল কম এবং প্রোটিনের ভাগ বেশি ।
  3. কোয়েলের দৈনিক ওজনের তুলনায় ডিমের শর্করা ওজন বেশি 
  4. ৮-১ ০ একটি মুরগির জায়গায় পালন করা যায় এবং ১৭-১৮ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় । 
  5. রোগ বালাই খুব কম এবং খাবার খুবই কম লাগে ।
  6. বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের উপযোগী ।
  7. অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অল্প দিনে বেশি লাভ করা যায় ।

  • কোয়েলের জাতঃ

পৃথিবীতে বর্তমানে ১৭ থেকে ১৮ জাতের কয়েল আছে । সব পোল্টির মতোই ইহার মাংস এবং ডিম উৎপাদনের জন্য পৃথক পৃথক জাতা আছে । পৃথিবীতে কোয়েলের বিভিন্ন জাতের মধ্যে জাপানি তেল অন্যতম । বিভিন্ন জাতের প্রকৃতি উৎস জাপানি কোয়েল ।

  • কোয়েলের প্রজননঃ
শুধুমাত্র ডিম ফোটাতে চাইলে স্ত্রী এবং পুরুষকে একত্রে রাখা প্রয়োজন । স্ত্রী কোয়েল প্রতিপালন অধিক লাভজনক । ডিমের উর্বরতা পেতে হলে তিনটি স্ত্রী কোয়েলের সাথে একটি পুরুষ কোয়েল দেওয়ার জন্য চার দিন পর থেকে ডিম সংগ্রহ করা উচিত । স্ত্রী কোয়েল থেকে পুরুষ কোয়েল আলাদা করার পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত ফুটানোর ডিম সংগ্রহ করা যেতে পারে । বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল 6-7 সপ্তাহ বয়সে ডিম পারা শুরু করে এবং ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ডিম পাড়া অপরবর্তিত থাকে ।

 উপযুক্ত পরিবেশে প্রথম বছর ঘরে ২৫০ থেকে ৩০০ টি ডিম পাড়ে । দ্বিতীয় বছরে ডিমের উৎপাদন প্রথম বছরের উৎপাদনের শর্করা ৪৮ ভাগ । কোয়েল ডিমের উর্বরতা শর্করা 82 থেকে 87 ভাগ । ডিম পাড়া শুরুর প্রথম দুই সপ্তাহের ডিম ফুটানো বসানো উচিত নয় । কোয়েলের ডিমের ঘর ওজন ১০ থেকে ১২ গ্রাম । কোয়েলের বাচ্চার ব্রুডিংএবং যত কোয়েলের বাচ্চা খুব ছোট থাকে । ওজন মাত্র পাঁচ থেকে সাত গ্রাম । 

এ সময় যে কোনরকম ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার প্রভাব স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধির উৎপাদন এবং বেঁচে থাকার উপর পরি পরে । এমতাবস্থায় খাদ্য প্রয়োজনে পুষ্টিমান এবং কাম্য তাপমাত্রা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বজায় রাখতে হবে । বাচ্চাকে ব্রোডিং বা তাপ দেওয়ার খাঁচায় এবং লিটারের করা যায় । বাচ্চার বয়স তাপমাত্রায় বাচ্চার বয়স তাপমাত্রা ।
প্রথম সপ্তাহ 350 সেলসিয়া (৯৫০ফাঃ)
দ্বিতীয় সপ্তাহ 32.20 সেলসিয়াস (৯০০ ফাঃ )
তৃতীয় সপ্তাহ 29.50 সেলসিয়াস (৮৫০ ফাঃ )
চতুর্থ সপ্তাহ ২৭.৬০ সেলসিয়া (৮০০ ফাঃ )

ইনকুভেটরে বাচ্চা ফোটার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বোর্ডিং ঘরে এনে প্রথমে গ্লুকোজ এবং এমবা বি ডব্লিউ এস পানির সঙ্গে পরপর তিনদিন খেতে দেওয়া ভালো । পরে খাদ্য দিতে হবে প্রথম সপ্তাহে খবরের কাগজ বিছিয়ে তার উপর খাবার ছিটিয়ে দিতে হবে । এক সপ্তাহ   পর ছোট খাবার পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে । পানির পাত্রে বাচ্চা যাতে পড়ে না যায় সেজন্য মার্বেল অথবা কয়েক টুকরো পাথর খন্ড প্রাণীর পাত্রে রাখতে হবে । সর্বদাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানি সরবরাহ করতে হবে ।

  • বাসস্থানঃ
বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পালনের জন্য লিটার পদ্ধতি চেয়ে কেইযে পালন অধিক লাভজনক । বাচ্চা অবস্থায় প্রতিটি কোয়েলের জন্য খাঁচায় ৭৫ বর্গ সেন্টিমিটার এবং মেঝেতে ১০০ বর্গ সেন্টিমিটার জায়গা দরকার । অন্যদিকে বয়স কোয়েলের বেলায় খাঁচায় প্রতিটির জন্য ১৫০ বর্গ সেন্টিমিটার এবং মেজেতে ২৫০ বর্গ সেন্টিমিটার জায়গা প্রয়োজন । কোয়েলের ঘর পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে । তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৭০ ফারহানাইট সেলসিয়াস হওয়া ভালো । পুরুষ এবং স্ত্রী কোয়েল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৃথক পৃথকভাবে রাখতে হবে ।

  • খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ
বাচ্চা বারান্ত অথবা প্রজনন কাজে ব্যবহার তো কোয়েলের জন্য রেশন বাজারে সহজলভ্য নয় । কোয়েলের রেশন কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যথা ঃস্টার্টার ,বাড়ান্ত, এবং লেয়ার । ডিম পাড়া কোয়েল এর প্রতি কেজি খাবারের 2.5 থেকে 3.0% ক্যালসিয়াম থাকতে হবে । ডিমের উৎপাদন ধরে রাখার জন্য গরমের সময় ৩.৫% ক্যালসিয়াম প্রয়োজন ।

  • শেষ কথাঃ
প্রিয় পাঠক আপনি যদি কোয়েল পালন সঠিক পদ্ধতি না জেনে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই পুরো আর্টিকেলটি পড়ে জানতে পেরেছেন । কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে কোয়েল পাখি পালন করা যায় । তথ্যবহ হলে আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটি ভিজিট করবেন ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url