মরিচ চাষ পদ্ধতি

  পুষ্টি মূল্য শুকনো মরিচে আমিষ প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে । নিয়মিত ভাবে কাঁচা মরিচ খেলে মুখে ঘা হয় না । রান্নাবান্না ও মুখরোচক খাবার তৈরি ছাড়াও মরিচ বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় । অনেকে মরিচের আচরণ করে থাকেন । তাই আমরা যদি সঠিক মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই তাহলে নিজের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণটি পড়ুন ।


প্রচুর আলো বাতাস এবং পানি সেচ ও নিকাশের ব্যবস্থা আছে এমন দো -আঁশ  মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী । আপনারা যদি আমাদের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকেন তাহলে আরও জানতে পারবেন মরিচের জাত পরিচিতি , সার ব্যবস্থাপনা , রোগ বালাই সম্পর্কে ।
আরো পড়ুন ঃশীতকালীন সবজির নামের তালিকা
পেইজ সূচিপত্রঃ মরিচ চাষ পদ্ধতি।
  • জাত পরিচিতিঃ
ঝাল ও মিষ্টি এ ধরনের মরিচ দেখা যায় । ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া  ,চাঁদপুরী , ফরিদপুর উল্লেখযোগ্য । এছাড়া কামরাঙ্গা আকালি ও কালো মরিচ খুব জাল ।
  • চারা তৈরিঃ
জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে আগাছা বাছাই করে ৩.১ মিটার আকারে বীজতলা করে সেখানে বীজ বপন করা হয় । শীতকালের জন্য ভাদ্র আশ্বিন মাসে ও বর্ষা মৌসুমের জন্য ফাল্গুন চৈত্র মাসে বীর্য তলায় বীজ বপন করা হয় । চারা ১০ সেন্টিমিটার উঁচু হলে রোপনের উপযোগী হয় ।
  • চারা রোপনঃ
আগাছা পরিষ্কার করে চার-পাঁচটি চাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্তুতির পর চারা রোপন করা হয় । চারা রোপনের শাড়ি থেকে শাড়ির দূরত্ব 60 থেকে 70 সেন্টিমিটার ও চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার রাখা হয় । চারা বিকেলে লাগাতে হবে এবং দুই তিন দিন সকালে পানি দিতে হবে ।
  • সার ব্যবস্থাপনাঃ
মরিচের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর দশ টন , ইউরিয়া ২৫০ কেজি , টিএসপি ২০০ কেজি এবং এমওপি সার ১৫০ কেজি প্রয়োগ করা হয় । জমি তৈরীর সময় সমুদয় গোবর , টিএসপি ও ৫০ কেজিএমওপি সার প্রয়োগ করা হয়  । চারা রোপনের ২৫ দিন পর 84 কেজি ইউরিয়া ও ৩৪ কেজি এমওপি সার প্রথম উপরি প্রয়োগ করা হয় । লাগানোর ৫০ দিন পর দ্বিতীয় ও ৭০ দিন পর তৃতীয় কিস্তিতে উপরে সার প্রয়োগ করা হয় । দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টিতে প্রতিবার ৮৩ কেজি উড়িয়া ও ৩৩ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয় ।

জমিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হবে ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে । আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে এবং উপরে সার প্রয়োগের সময় কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে । প্রিয় পাঠক এখন আমরা আলোচনা করব পোকা সম্পর্কে ।
  • পোকাঃ
পোকার নামঃ   সাদা মাছি
খুব ছোট আকারের এই পোকা পাতার রস চুষে খায় । ফলে গাছের বাড়তি ব্যাহত হয় । তাছাড়া এ পোকা কালো শুটির মূল নামক ছত্রাক পাতায় জান্নাতে সহায়তা করে এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায় ।

পোকা চেনার উপায়ঃ
সাদা রঙের এ পোকা গাছের পাতা নিচের দিকে থাকে । লম্বা এক মিলিমিটারের চেয়ে সামান্য বড় । গাছের পাতায় সামান্য নাড়া দিলে উড়ে চলে যায় । এ সকল প্রকার শরীরের সাদা মন জাতীয় পদার্থ দ্বারা ঢাকা থাকে ।

ক্ষতির নমুনাঃ
পাতার নিচের দিক হতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পোকা পাতার রস চুষে খায় ফলের পাতা কুঁচকে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় । আক্রমণে প্রথমে পাতায় সাদা বা হল দুটি রং দেখা যায় পরে দাগগুলো একত্রে হয়ে সবুজ শীরা সব পাতা হলুদ হয়ে যায় । এ পোকা খাবার সময় আঠালো মিষ্টি রস নিঃসরন করে বিদায় ওই আঘাতে কালো ছত্রাক জান্নাতে সহায়তা করে । এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায় ।

অনুকূল পরিবেঃ
 উষ্ণ ও শুকনো আবহাওয়া এর পোকা বিস্তারের জন্য সহায়ক ।

 জীবন চক্র ঃ
এ পোকা সাধারণত পাতার নিচের দিকে অতি ক্ষুদ্র সাদা ডিম পাড়ে । ডিম পরে  বাদামি রং এর ধারণ করে ও ৩-১৭ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় । বাচ্চা সবুজ সাদা দুই থেকে ছয় সপ্তাহ অবস্থায় থেকে পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয় । পূর্ণাঙ্গ পোকা 10 থেকে 15 দিন বাঁচে ।

ব্যবস্থাপনাঃ
হলুদ রঙের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে । প্রতি লিটারে পাঁচগ্রাম কাপড় কচা সাবান মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে । অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে  হবে ।
পোকার নাম ঃ থ্রিপস
এটি একটি ক্ষুদ্র পোকা । আক্রমণ বাহির হতে বুঝা যায় না বিদায় ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা থাকে । সুতরাং মাঝে মাঝে ক্ষেত পরিদর্শন করে ফসলের অবস্থা দেখে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে ।

পোকা চেনার উপাইঃ
থ্রিপস  অতি ক্ষুদ্র একটি পোকা যা খালি চোখে কোন মতে দেখা যায় । এ পোকা পাতার রস চুষে খায় । ফলে অধিক আক্রমণে পাতা কুঁচকে যায় এমনকি গাছ থেকে কোন ফুল ফল নাও আসতে পারে । এ পোকা ভাইরাস রোগও ছাড়াই ।

 ক্ষতির নমুন ঃ
বাচ্চা ও পূর্ণাঙ্গ পাতার রস চুষে খায় বলে পাতা প্রক্রিয়া যায় এবং অনেকটা নৌকার মতো দেখায় । পোকার আক্রমণে পাতা বাদামি রং ধারণ করে । নতুন ও পুরাতন পাতা উভয়েই আক্রমণ করে । অনুকূল পরিবেশঃ উষ্ণ  ও শুল্ক আবহাওয়া ।

জীবন চক্রঃ
পূর্ণবয়স্ক পোকা ৪০ থেকে ৫০টি ডিম পাড়ে । ৫ থেকে ৬ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা বের হয় এবং ৬০ থেক.৭- ৮ দিন পর পূর্ণাঙ্গ পোকার পরিণত হয়  ।পূর্ণাঙ্গ পোকা ৩১ দিন পর্যন্ত বাচে পাতা নাড়াচাড়া করলে এরা উরে পালাই ।

ব্যবস্থাপনা ঃ
সাদা রঙের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা । মাকড় সাহেব পোকা খায় বিদায় এর সংখ্যা বাড়ানো গেলে সহজেই এর দমন করা যায় । অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা ।
পোকার নামঃ জাব পোকা 
পূর্ণাঙ্গ ও বাচ্চা পাতা ফুল কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায় । অধিক আক্রমণে বাড়তি কমে যায় ও ফলন কম হয় । এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়াই ।

পোকা চেনার উপায়ঃ
জাব পোকা অতি ছোট দেহ নরম ও উজ্জ্বল কালো রঙের হয়ে থাকে । পাখাওয়ালা জাপ পোকা উড়তে পারে কিন্তু বাচ্চা পাখা বিহীন উড়তে পারেনা এরা দলবদ্ধভাবে বাস করে ।

ক্ষতির নমুনা ঃ
পূর্ণাঙ্গ ও বাচ্চা পাতা ফুল কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায় । পাতা কুঁকড়ে যায় গাছের ফল ফুল বৃদ্ধি বা ধারণা বাধা গ্রস্ত হয় । এ পোকা থেকে নিশ্চিত মধু রসে কালো শুটির মূল ছত্রাক জন্মায় । অনুকূল পরিবেশঃ বাতাসে আদ্রতা বেশি ও মেঘলা আকাশ । 

জীবন চক্র ঃ
এ পোকা কোন জন মিলন ছাড়াই ১০-১২ দিনের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৮ টি বাচ্চা জন্ম দিতে পারে । বাচ্চা অবস্থায় ৫-৮ দিন থাকে । পাখাবিহিন জাব পোকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা দিতে পারে এরা সারা বছর বংশবিস্তার করে ।

ব্যবস্থাপনা ঃ
আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলা । লেডিবার্ড ডিটেলের পূর্ণাঙ্গ ও কিরা এবং শীরফীড ফ্লাই এর ক্রীড়া গাব পোকা খায় বিদায় এদের সংরক্ষণ রূপ সংখ্যা বাড়ানো গেলে দ্রুত খেয়ে ফেলি । অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা ।
  • পাতা পচাঃ
রোগের নামঃ পাতা পচা
চোয়ানি পুরা নামক ছত্রাকের আক্রমণে রোগ হয় । খেতে আক্রমণ বেশি হলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । এর কারনে রোগের আক্রমণের শুরু থেকেই সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ।

ক্ষতির নমুনা ঃ 
চারা ও বয়স্ক গাছের শাখা প্রশাখা পাতা ফুল ও ফলের রোগে আক্রান্ত হয় । প্রথমে পাতায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায় । আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ হয়ে কালচে রং ধারণ করে এবং পাতা দ্রুত পচে যায় । অনুকূল পরিবেশে পাঁচ সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ গাছ মরে যেতে পারে ।

ব্যবস্থাপনা ঃ
ফসলের পরিতত্ত্ব অংশ নষ্ট করতে হবে । গাছ আক্রান্ত হওয়া মাত্রই অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে ।
  • ফসল সংগ্রহঃ
ফুল আসার পরও ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচ তোলা হয় । তবে মরিচের রং লাল হলে তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় । প্রতি হেক্টরে ফলন কাঁচা 10-11 টন ও শুকনো এক দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন  ।
  • শেষ কথাঃ
প্রিয় পাঠকগণ আপনারা যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা যা যা আলোচনা করেছি তা সম্পূর্ণ জানতে পেরেছেন । তথ্য ভহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন । 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url