লেবুর শরবতের উপকারিতা-লেবুর শরবতের গুনাগুন

 লেবুর শরবতের কথা আমরা সবাই জানি । কিন্তু এর উপকারিতা সম্পর্কে জানিনা? সকাল-সকাল হালকা গরম পানিতে লেবুর শরবত দিয়ে দিনটি শুরু করলে সেটি হয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর । এছাড়াও রয়েছে হাজারো অজানা গুণ । তাই আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে লেবুর উপকারিতা ও গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

তৃষ্ণা মেটাতে লেবুর শরবতের তুলনা নেই । তবে ঘুম থেকে উঠেই কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাসটা স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ । একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েব সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সকালে ঘুম থেকে উঠে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা গুলো নিচে উল্লেখ করা হবে ।

পেজ সুচিঃ লেবুর শরবতের উপকারিতা-লেবুর শরবতের গুনাগুন

  • হজমের সাহায্য করে
  • রোগ প্রতিরোধ
  • ক্ষারের সমন্বয়
  • বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন
  • শক্তিবর্ধক
  • ত্বক সুন্দর করে
  • লেবুর শরবতের গুনাগুন
  • শেষ কথা

  • হজমের সাহায্য করেঃ
দিনের শুরুতে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া সহায়তা করে । অন্যদিকে লেবু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে আর বর্জ নিষ্কাশনের সহায়তা করে ।

  • রোগ প্রতিরোধঃ
সিট্রাস গোত্রের ফল যেমন লেবু পাতালি লেবু বা কমলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং অস্কার্বিক এসিড । ভিটামিন সি ঠান্ডা জনিত রূপ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে এবং অস্কারবিক এসিড শরীরের আয়রন গ্রহণের সহায়তা করে । ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।
  • ক্ষারের সমন্বয়ঃ
শরীরে হাইড্রোজেনের পরিমাণের উপর অনেকাংশে সুস্থতা নির্ভর করে । সর্বমোট পিএইচ বা পাওয়ার অফ হাইড্রোজেন স্কেল হল ১ থেকে ১৪ । মানবদেহে ৭ মাত্রায় পিএইচ থাকা স্বাভাবিক । এর থেকে কম বা বেশি হলে শরীরে রোগের বিস্তার হতে পারে । এসিডিক বা ক্ষারীয় ফল হলেও লেবু মানব দেহে ph এর মাত্রা সমন্বয় করতে সাহায্য করে । বিশেষ করে যারা বেশি মাংস পনির বা অ্যালকোহল গ্রহণ করে তাদের জন্য লেবু সবচেয়ে উপকারী ।
  • বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনঃ
পানির মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায় । লেবু হচ্ছে প্রাকৃতিক মুএ বর্ধক । তাছাড়া লেবুর সৃষ্টি এসিড পাকস্থলী পরিষ্কার রেখে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে ।
  • শক্তিবর্ধকঃ
পানি এবং লেবুর রস শরীরে প্রয়োজনীয় আদ্রতা বজায় রাখে এবং রক্তে অক্সিজেনযুক্ত করে । ফলে শরীরে শক্তি সঞ্চয় হয় । তাই লেবুর শরবতকে শক্তিবর্ধক বলা হয় ।
  • ত্বক সুন্দর করেঃ
দীর্ঘক্ষণ পানি শূন্য থাকলে ত্বক ম্লান দেখায় । সকালে লেবুর শরবত খেলে ভিটামিন সি ত্বক সুস্থ রাখে । আর লেবুর এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে । তাই নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে আমাদের ত্বক অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে ।

  • লেবুর শরবতের গুনাগুনঃ
  1. এই যকৃত পরিষ্কার রাখে এবং এর কার্যক্ষমতা বাড়ায় । তাছাড়া এটি পাচক ও হজম সহায়ক এসিড তৈরি করে খাবার হজম ও বর্জনের সাহায্য করে ।
  2. টক জাতীয় ফল যেমন লেবুতে অনেক বেশি পরিমাণ ভিটামিন সি এবং এস্কবিক এসিড থাকে । ভিটামিন সি ঠান্ডা জ্বর থেকে রক্ষা করে দেহকে এবং এস্কবিক এসিড আয়রন শোষনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা দেহের রোগ প্রতিরোধে অংশ হিসেবে কাজ করে ।
  3. আপনার শরীরে যদি পিএইচ এর মাত্রা ঠিক না থাকে তবে অনেক রকম অসুখ হতে পারে । যদিও লেবু এসিডিক তথাপি এটি দেহের মধ্যে ক্ষারীয় ভাব আনে এবং শরীরে পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে ।
  4. লেবু পানি একটি প্রাকৃতিক মুত্রবন্দক । এটি আপনার শরীরকে পরিষ্কার করে এবং সেইসাথে বিষক্রিয়া জাতীয় পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় । সাইট্রিক এসিড গুলো লেবারের জন্য প্রয়োজনে আঞ্জাম গুলো বৃদ্ধি করতে সাহায্য সহায়তা ভূমিকা পালন করে ।
  5. অনেকেই নিজেই সকালের চা কফি ছাড়তে দ্বিধাবোধ করেন। কিন্তু অনেকেই খুব সহজে কয়েকদিন লেবুর পানি পান করে । লেবু এবং পানির এই মিশ্রণটা পরিশুদ্ধ ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত তৈরি করে । যার ফলে সারাটি দিন অনেক ফুরফুরা এবং সতেজ লাগে ।
  6. যাদের মধ্যে পানি শূন্যতার সমস্যা রয়েছে তাদের দেহের চামড়া অনেক রোক্ষ হয়ে যায় এবং ফাটাফাটা দেখা যায় । তারা দিনের শুরুটা করুন এক গ্লাস হালকা গরম পানি মধু এবং লেবুর শরবত দিয়ে  । ভিটামিন সি চামড়া সুন্দর একটি সাহায্য করে এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট গুরিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে আপনাকে ।
  7. আমাদের বাত ব্যাথা হাঁটুতে ব্যথা আছে বা ফুলে যায় তাদের জন্য এই শরবতটি উপকারী । কারণ লেবু পানি ইউরিক এসিড কমিয়ে দূর করে দেয় ফলে ব্যাথা কমে যায় ।
  8. লেবু পানিতে বেশ পরিমাণ প্রোটিন জাতীয় আঁশ আছে যা কোলনের জন্য ভালো এবং এটি অনুজীব প্রতিহত করে ।
  9. সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম লেবু পানি ওজন কমাতে সাহায্য করে ।
  10. মাইগ্রেনের সমস্যা এটি অনেক উপকারী । মাইগ্রেনের ব্যাথা সময় লেবুর শরবত খেলে লেবু চিনি ব্রেইনের নার্ভকে আরাম দেয় এবং ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে ।
  • শেষ কথাঃ
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি যে লেবুর শরবতের উপকারিতা ও লেবুর শরবতের গুণাগুণ সম্পর্কে । আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন এর উপকারিতা ও গুনাগুন সম্পর্কে । তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের নিয়মিত ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url