মাশরুম চাষ পদ্ধতি -মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন

 মাসরুম একটি পুষ্টিকর সবজি । সাধারণ সবজির মত মাশরুম মাটিতে জন্মায় না । এটি নিম্ন শ্রেণীর ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ । জীবন ধারণের জন্য এরা জৈবিক বস্তু থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিক গ্রহণ করে । প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পুরো আর্টিকেলটি পরেন তাহলে কিভাবে সহজে মাসরুম চাষ করতে হয় তা জানতে পারবেন ।


আসির দশকের শুরুতে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয় । সে সময় সাভারে অবস্থিত কৃষি সাধারণ অধিদপ্তর আওতাধীন দুইটি কালচার সেন্টারে একটি মাসুম স্তন উৎপন্ন স্থাপিত হয় । উক্ত কেন্দ্রের উদ্যোগে আশেপাশে চাষীদের স্পন সরবরাহ ও মাসুম উৎপাদনের কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মাশরুম চাষ শুরু হয় । বর্তমানে সাভারে মাশরুম সেন্টারে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাশরুম উৎপাদন কার্যক্রম আরো বিস্তারিত কাজ রয়েছে ।

পেজ সূচিপত্রঃ মাশরুম চাষ পদ্ধতি -মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন

  • মাশরুমের পুষ্টিমান
  • মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন ও নানাবিধ ব্যবহার
  • মাশরুমের জাত
  • মাশরুম চাষ পদ্ধতি
  • পোকামাকড় ও রোগ বালাই দমন
  • শেষ কথা

মাশরুমের পুষ্টিমান

প্রিয় পাঠক নিচের এই অংশে আমরা আলোচনা করব মাশরুমের পুষ্টিমান সম্পর্কে । মাশরুম থেকে আমরা কি কি পুষ্টিমান পেয়ে থাকি তা নিচের অংশটুকু করলেই বুঝতে পারবেন তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক মাশরুমের পুষ্টিমান গুলো কি কি -

  • খাদ্য হিসেবে মাশরুম অতুলনীয় । প্রাচীনকাল থেকেই এটি পুরুষ সুস্বাদু দামি খাবার হিসেবে বিবেচিত । 
  • মাসুম প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি । তাই একে সবজি মাংস বলা হয়ে থাকে । প্রতি 100 গ্রাম শুকনা মাশরুমে ২০ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায় ।
  • মাশরুম ভিটামিন সি , বি কমপ্লেক্স , পটাশিয়াম , সোডিয়াম , ফসফরাস ও কম মাত্রাই ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে । লোহা কম থাকতেও সহজলভ্য অবস্থায় থাকে বলে রক্তি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে মাশরুম সহায়তা করে ।
  • মাশরুম খুব নিম্নশক্তি সম্পন্ন খাবার এতে কোলেস্টেরল নেই চর্বির পরিমাণ অন্তত কম কিন্তু শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড লিনোলয়িক এসিড রয়আসিড।
  • মাশরুমে পরিমিত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও যথেষ্ট আস ৮ থেকে 10% থাকে । শর্করার পরিমাণ কম বিদায় বহুমূত্র রোগীদের জন্য মাসুম আদর্শ আদর্শ খাবার ।
  • কম চর্বি কোলেস্টেরল মুক্ত এবং লিনোলোয়িক এসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় মাশরুম হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী ।

মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন ও নানাবিদ ব্যবহার

প্রিয় পাঠক আপনি যদি মাসুমের ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আপনি মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন গুনাগুন ও নানাবিধ ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হবে । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক মাসুমের ঔষধি গুনাগুন ও নানাবিধ ব্যবহার সম্পর্কে ।
  • বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে মাশরুমের ব্যবহার সুবিধা । বাত ব্যথা , জন্ডিস , কিমি , রক্ত বন্ধ হওয়ার কাজে মাশরুম ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।
  • মাশরুম রক্তচাপ কমে এবং টিউমার কুস এর বিরুদ্ধে কাজ করে ।
  • নিয়মিত মাশরুম  থেকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয় । রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি কাশি দূর হয় ।
  • মাস্রুম উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগীদের জন্য উপকারী ।
  • মাশরুমে যথেষ্ট আঁশ থাকাই শরীর স্লিপ রাখতে সহায়তা করে ।
  • মাশরুম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মাশরুম প্রোটিনের হজম ক্ষমতা শর্করা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ হওয়ায় রোগীদের জন্য সহজ পাক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার ।
  • রং বোতলের কক ছবি ফ্রেম ফুলদানি হিসেবে মাসুম ব্যবহার করা হয় ।

মাশরুমের জাত

প্রিয় পাঠক নিচে আমরা আলোচনা করব যে মাশরুমের কয়েকটি জাত সম্পর্কে তাই আপনি যদি মাশরুমের জাত সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে নিচের অংশটি পড়ে ফেলুন ।প্রকৃতিতে মাশরুমের কয়েক হাজার জাত রয়েছে যার মধ্যে ৮ থেকে ১০ টি জাত বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়ে থাকে । বাংলাদেশের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আদ্রতা মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী । বাংলাদেশের চাষ উপযোগী মাশরুমের জাতগুলো হল -
  1. ঝিনুক মাশরুম
  2. দুধ মাশরুম
  3. কানা মাশরুম
  4. বোতাম মাশরুম
  5. তাপ সহনশীল বোতাম মাশরুম
  6. সীতাকে মাশরুম
  7. খর মাশরুম

মাশরুম চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক  মাশরুমের চাষের বেশি প্রচলিত । চাষীদের জন্য স্পন  ভর্তি সাবজেক্ট সহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতলিপি ব্যাগ সরবরাহ করা হয় । সরবরাহ কৃত এসব ব্যাগ থেকে চাষিরা ফসল উৎপাদন করে থাকেন । মোটামুটি ৫০০ গ্রাম ওজনের এসব ব্যাগের ভিতরে উৎপাদন হচ্ছে-
  1. কাঠের গুড়া 64%
  2. গমের ভুসি ৩২ পার্সেন্ট
  3. দানের তোষ ৪%
  • উক্ত মিশ্রনের সাথে সামান্য পরিমাণ চুন এবং পানি মেশানো হয় । প্যাকেটগুলো ঘরের চাষ বিশিষ্ট বাসের বেড়া ও পাকা মেজের ঘরে কাঠ ও বাঁশের তাকে শাড়ি করে সাজিয়ে রাখা হবে ।
  • অতঃপর ব্যাগের দুপাশে অভ্রচন্দাকৃতির করে কেটে কাটা অংশটি খানিকটা চেটে ফেলে দিতে হবে ।
  • চাষের পর ব্যাগটি পরিষ্কার পানিতে ২১ থেকে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে ।
  • ব্যাগটি অতঃপর পরিষ্কার করে তারের জালির উপর আধা ঘন্টা সময় উল্টে রাখতে হবে যাতে ভেতরের বাড়তি পানি ঝরে যায় ।
  • এবার চাষ করে কাঠের ব্যাগ বা বাসের মাথায় পরিমিত বিছিয়ে ব্যাগগুলো তার উপর সারিবদ্ধ ভাবে রাখতে হবে ।
  • বাইরের তাপমাত্রা কম থাকলে ব্যাগের উপর পলিথিন ঢেকে দিয়ে দুই তিন দিন রাখতে হবে যাতে ব্যাগের ভেতর তাপমাত্রা বেড়ে যায় । এ সময় ঘরের আদ্রতা আশি পার্সেন্ট এবং তাপমাত্রা 25 থেকে 300 সেলসিয়াস হওয়া দরকার ।
  • ব্যাগগুলোতে নিয়মিত পানি স্প্রে করতে হবে
  • পলিথিন ঢাকা থাকলে ৩-৪ বার ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ঢাকনা সরিয়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।
  • দুই তিন দিন পর ব্যাগের কাঁটা অংশ দিয়ে সাদা প্রিন্ট সমৃদ্ধ অংশ দেখা যায় । আরো দুই তিন দিন পর মাসুম বড় হলে সংগ্রহ করতে হবে ।
  • অন্য দুপাশ থেকে অতঃপর একইভাবে শেচ দিয়ে পানি স্প্রে করলে নতুন ভাবে মাশরুম উৎপাদন হবে ।
  • একটি মাসুমের ব্যাগ থেকে তিন চারবার ফসল তোলা যায় ।

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন

প্রিয় পাঠক উপরে আমরা আলোচনা করেছি যে মাশরুম চাষ পদ্ধতি নিয়ে । তাই উপরের অংশটি পড়ে যদি আপনার মনে হয় আপনি মাসুম চাষ করবেন তাহলে । নিচের অংশটি আপনার পড়া দরকার । কারণ এখন আমরা মাসুমের পোকামাকড়ায় ভ্রমন সম্পর্কে আলোচনা করবো ।মাসুমের মাছের প্রকোপ দেখা দিতে পারে । এজন্য ম্যালথিয়ন ০.১% স্প্রে করা যেতে পারে । এছাড়া ফারমালীডিহাইডে চার পার্সেন্ট তোলা ভিজিয়ে সানট্রেট ঘষে দিলে সবুজ বাদামি বা নীল মোট দূর হয়ে যাবে ।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পুরো আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে মাশরুম চাষ পদ্ধতি এবং মাশরুমের ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে । আরো জানতে পেরেছেন যে মাসুমের রোগবালায় হলে পোকামাকড় কিভাবে দমন করা যায় । তাই তথ্যবহুল আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url