সজনে পাতার উপকারিতা -সজনে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নিন

ইংরেজিতে স্জনের নাম 'ড্রামেস্টিক' যার অর্থ ডুলের লাঠি । সজনার ইংরেজি নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ । দেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকম গবেষণা হয়েছে । বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ওষুধে গুণসম্পন্ন , কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে । প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে সজনে পাতার উপকারিতা এবং সজনে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারবেন ।



তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আজকে আর্টিকেলের বিষয় এর ডাটা বা ফলে প্রচুর এমাইনে এসিড আছে এটি বাত রোগীদের জন্য ভালো । সজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো কারণ এটি বসন্ত প্রতিষেধ ।
পেজ সূচিঃসজনে পাতার উপকারিতা -সজনে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নিন
  • ভূমিকা
  • সজনে এর চাষ পদ্ধতি
  • সজনে এর পুষ্টিগুণ
  • সজনে পাতার উপকারিতা
  • বহুরূপী সাজনা
  • শেষ কথা

 ভূমিকা

দেশের প্রায় সব এলাকায় সজনা পাওয়া যায় । বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙ্গিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে উঠে এই বৃক্ষটি । স্জনের ফুল ও পাতা শুধু শাক সবজি হিসেবেই নয় পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় । এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচি বর্ধক হয় । এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ , বি , সি্‌ , নিকোটিনিক এসিড , প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ , কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি । মুখের স্বাদকে

 ফিরিয়ে আনতে সজনার জুড়ি নেই । সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাটা সব মানুষ পছন্দ করে । আমরা জানি সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য । তবে সহজ না শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ঔষধি বৃক্ষ বটে । সজনার ব্রিজ থেকে তেল পাওয়া যায় যা বাপের ওষুধ তৈরি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেলওয়েল ব্যবহার করা হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায় ।

আরো পড়ুনঃ কাঁঠালের ঔষধি গুন -কাঁঠালের উপকারিতা জেনে নিন

সজনের চাষ পদ্ধতি

সাজনা চরম পরিবেশগত অবস্থা সহ করতে সক্ষম । তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ভালো জন্মায় এবং যেসব এলাকায় ২৫০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটারে বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভালো জন্মায় । মাটি বেলেদোষ থেকে দুয়া এবং পিএইচ ৫.০ থেকে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ করতে পারে । সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না কারণ সাজনার বিস্তিত  গভীর শিখর রয়েছে । তবে ইউরিয়া এবং জুব্বা

 সার প্রয়োগ করলে গাছ ভালো হয় । আমাদের দেশে ডাল পুঁতে এর বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহার হয় । তার কারণ হলো এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না । আর খরচও কম বংশবিস্তারের জন্য চার পাঁচ বেডের পাশ থেকে ছয় হাত লম্বা নীরোগ ডাল এবং আঘাত মুক্তডাল ব্যবহার করা ভালো । নতুন লাগানো গাছে সেচ ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে । সজিনার গাছে

 তুলনামূলক কীটপতঙ্গ রোগ  মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায় । যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকর পাচা রূপ দেখা দিতে পারে । সজিনার পাতা বেটে ফুরাবা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয় । ছাদে ও গুনে ভরপুর সজিনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা লাভজনক । অন্যান্য সবজির মত এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই ।

সজনা এর পুষ্টিগুণ

প্রিয় পাঠক এখন আপনারা জানতে পারবেন সজনা এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । তাই আপনি যদি স্বর্ণের পুষ্টিগণ সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে নিচের অংশটুকু পরে  ফেলুন ।

  • বাম্পের ৮৬.৯ ভাগ
  • ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন 2.5 ভাগ
  • ফসফরাস ১১০ মিলিগ্রাম
  • ফ্যাট ০.১ ভাগ
  • ৫.৩ মিলিগ্রাম আয়রন
  • ভিটামিন সি ১২০ মিলিগ্রাম
  • ফাইবার ৪.৮ ভাগ
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অল্প পরিমাণ
  • খনিজ 2.0 ভাগ
  • ১০০ গ্রাম এর ভোজ্য অংশ প্রতি মূল্যবোধ শর্করা ৩.৭ ভাগ
সজনা রক্তস্বল্পতার জন্য ব্যবহার করা হয় । জন্ম ও পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথা , হাঁপানি , মিশ্রণ কুষ্ঠুকেটের , ডায়াবেটিস , ডায়রিয়া , পেটব্যথা , আলসার  ,মাথা ব্যাথা , হার্টের সমস্যা , উচ্চ রক্তচাপ  ,কিডনি এবং ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক জনিত ভাইরাস পরাশ্রে সংক্রমণ । সজনা এছাড়াও ফোলা কমাতে , সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধি , গর্ভধারণ রোদ ইমিউন সিস্টেম অনুমোদন এবং বুকের দুধের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয় । প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি সজনে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নিচে আমরা আলোচনা করব সজনে পাতার উপকারিতা নিয়ে ।

সজনে পাতার উপকারিতা

ঔষধ তৈরীর কাজে সহজে পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে । ১০০ গ্রাম সজনে পাতায় প্রচুর পানি থাকে । এই পাতা বেজে অন্যান্য সবজির সঙ্গে তরকারি খাওয়া ছাড়াও পিথাগুরুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তৃপ্তি পাওয়া যায় । পাশাপাশি সজনে পাতার ঔষধি গুণ সম্পর্কে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানান কেমন সজনে পাতা শাক হিসেবে বসন্তকালে খেলে বসন্ত রূপ প্রতিরোধ করা যায় । এছাড়াও সর্দি কাশি জ্বর ও কৃমির রোগের সজনে পাতা দারুন ।
  1. মুখে রুচি বাড়েঃ সজনে ডাটার মত আর পাতাও রয়েছে যথেষ্ট সজনে পাতা শাক হিসেবে ভর্তা করে খাওয়া যায় এতে মুখে রুচি আসে ।
  2. শ্বাসকষ্ট ও হেচকি কমাতেঃ সজনে পাতার রস খাওয়ালে শ্বাসকষ্ট সারে ও হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয় । তাছাড়া পাতাকে অনেকক্ষণ সিদ্ধ করে তা থেকে যেই ঘন রস পাওয়া যায় ও শুকনো আদার গুরু মিশিয়ে খাওয়ালে পেটের গ্যাস বেরিয়ে আসে ।
  3. রক্তচাপ কমাতেঃ চিকিৎসকদের মতে সজনের পাকা পাতার টাটকা রস দুবেলা খাবারের ঠিক আগে দুই থেকে তিন চামচ করে খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায় । তবে ডায়াবেটিস থাকলে তা খাওয়া নিষেধ ।
  4. সজনে পাতা বেটে অল্প গরম করে ঘোড়ার উপর লাগালে ফোড়া ফেটে যায় ।
  5. সজনে পাতার রস মাথায় গজলে খুশকি দূর হয় ।
  6. সজনে পাতার রস ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে 

বহুরূপী সাজনা

বিজ্ঞানীদের মতে সজিনা ডাটা অ্যামাইনো এসিড সম্মিলিত যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্য খুব উপকারী । সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় । তাছাড়া মূলের ছালের পলেপে দাদ উপশম হয় । ঔষধি উদ্ভিদ সজিনার বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফারা । লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় , সজিনা তিন ধরনের নীল সেত ও রক্ত সজিনা । প্রিয় পাঠক সাজনা আর বহুরূপী নিয়ে এতক্ষন আমরা আলোচনা করেছি ।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন পাতার উপকারিতা এবং সজনা আয়ের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে । আরো জানতে পেরেছেন বহুরূপী সাজনা ও সাজনা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে । তথ্যবহুলে আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url