গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

 বাংলাদেশ গরুর মাংস খুব জনপ্রিয় এবং চাহিদা ও প্রচুর । তাছাড়া মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব কোরবানির সময় অনেক গরু জবাই করা হয় । সুতরাং গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি লাভজনক ব্যবসা । প্রিয় পাঠক আপনি যদি গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন ।


গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হবে সেগুলোর নিচে আলোচনা করা হবে । তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক আজকের বিষয়গুলি ।

কনটেন্ট সূচিপত্রঃ গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

  • পশু নির্বাচন
  • কৃমি মুক্ত করণ ও টিকা প্রদান
  • ঘর তৈরি
  • পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
  • দৈহিক ওজন নির্ণয়
  • বাজারজাতকরণ
  • শেষ কথা

  • পশু নির্বাচনঃ
মোটাতাজা করন কর্মসূচির জন্য গরু ক্রয়ের সময় প্রদান দুটি বিবেচ্য বিষয় হলো বয়স শারীরিক গঠন ।

  1. বয়স নির্ধারণঃ মোটাতাজা করার জন্য সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের গুরু ক্রয় করা যেতে পারে , তবে তিন বছরের গরু হলে ভালো।
  2. শারীরিক গঠনঃ মোটা তাজা  করনের ব্যবহৃত গরুর দৈহিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এজন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রেখে গরু নির্বাচন করা জরুরী ।
  • দেহ হবে বর্গাকার ।
  • গায়ের চামড়া হবে ঢিলা দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে টান দিয়ে দেখতে হবে ।
  • শরীরের হাড় গুলো আনুপাতিক হারে মোটা , মাথাটা চওড়া , ঘাড় চওড়া এবং খাটো ।
  • পা গুলো খাটো এবং সোজাসুজিভাবে শরীরের সাথে যুক্ত ।
  • পেছনের অংশও পিঠ চওড়া এবং লোম খাটো ও মেলানো ।
  • গরু অপুষ্ট ও দুর্বল কিন্তু রোগা নয় ।
  • কৃমি মুক্ত করণ ও টিকা প্রদানঃ
পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে । গরু সংগ্রহের পরপরই পালনের সব গরুকে একসাথে কৃমি মুক্ত করা উচিত । তবে প্রতি ৭৫ কেজি ওজনের জন্য একটি করেএনডেক্স বা রেনাডেক্স ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে ।


পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া থাকলে খামারি আনার পরপরই সবগুলো গুলোকে তরকা বদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে । এ ব্যাপারে নিকটস্থ পসু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে ।
  • ঘর তৈরিঃ
আমাদের দেশের অধিকাংশ খামারি দুই থেকে তিনটি পশু মোটা তাজা করে থাকে । যার জন্য সাধারনত আধুনিক সেট করার প্রয়োজন পড়ে না । তবে যে ধরনের ঘরে গরু রাখা হোক ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজে পরিষ্কার করা যায় সেই দিকে খেয়াল রেখে ঘর তৈরি করতে হবে ।
  • পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ
গরু মোটাতাজাকরণের দুই ধরনের খাদ্যের সমন্বয়ে রেশন তৈরি করা হয় ।
  • আঁশ জাতীয়ঃ শুধু , খর , ইউ এম এস ,সবুজ ঘাস ইত্যাদি । তবে এই প্রক্রিয়ায় খামারিদেরকে শুধু খরে্র পরিবর্তে ইউএমএস খাওয়াতে হবে ।
  • দানাদারঃ খৈল , ভূসি , চালের কুরা ,শুটকি মাছ , ঝিনুকের গোড়া্ল‌বণ ইত্যাদি ।
  • খাওয়ানোর পরিমাণঃ গরুকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থাৎ গরু যে পরিমাণ খেতে পারে সে পরিমাণ সরবরাহ করতে হবে । কোন খামারি সবুজ ঘাস খাওয়াতে চাইলে প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা গাসের সাথে তিন কেজি চিটাগুড়ি মিশিয়ে তা গরুকে খাওয়াতে পারেন । এক্ষেত্রে কাঁচা ঘাসেও গরুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ করতে হবে ।
  • দানাদার মিশ্রণঃ খামারিদের সুবিধার জন্য নিচের সারণীতে একটি দানাদার মিশ্রণ তৈরি বিভিন্ন উপাদান পরিমান সহ উল্লেখ করা হলো । নিচের ছক অনুযায়ী খামারে গন বিভিন্ন পরিমাণ মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারবেন । গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে । পাশের দানাদার মিশ্রণটি গরুর ওজনের শর্করা ০৮-১  ভাগ পরিমাণ সরবরাহ করলেই  চলবে ।
খাওয়ানোর সময়ঃ দানাদার মিশ্রণটি একবারে না খাইয়ে ভাগে ভাগে করে সকাল এবং বিকেলে খাওয়াতে হবে । গরুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে ।
  • দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ
মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার গ্রুকে দৈহিক ওজন নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ । কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে । গরুর ওজন নির্ণয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল জায়গায় দাঁড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক সীতা দ্বারা দৈর্ঘ্য ও বুকের মাপ নিতে হবে । এই মাপ নিচের সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে ।

(দৈর্ঘ্য * বুকের বেড়* বুকের বেড়)= ওজন (কিলোগ্রাম)৬.৬০
  • বাজারজাতকরণঃ
উপরের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী পালন করে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরণ করে বাজারজাত করা সম্ভব ।
  • শেষ কথাঃ
আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন গরু মোটা তাজা কোরআন পদ্ধতি এবং কিভাবে গরু তাড়াতাড়ি মোটা করা যায় । আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটি ভিজিট করবেন । 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url