শসার ঔষধি গুণ ও শসা খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায়

 আমরা প্রত্যেকদিন বিভিন্ন খাবারের সাথে শসা খেয়ে থাকি । কিন্তু আমাদের এর উপকারিতা ও গুনাগুন সম্পর্কে কারো জানা নাই সঠিক তথ্য । তাই আমরা এই আর্টিকেলটিতে নিচে আলোচনা করব  শসার গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে । শসা খেলে আমাদের অনেক রোগ সারে । সারা বিশ্বে আবাদ হওয়া দিক থেকে চার নম্বরে রয়েছে যে সবজি সেটি হল শসা । শসার অনেক ঔষধি গুণাবলী রয়েছে ।


রূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণ সহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির । তাই আপনি যদি পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন তাহলে আর কিছু জানতে পারবেন ।

পেইজ সুচি ঃ শসার ঔষধি গুণ ও শসা খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায়


শসার ঔষধি গুনঃ
  • শশায় প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে তাই শরীরে তাপমাত্রা কমিয়ে মনকে প্রশান্ত করে তুলে । 
  • শশা মূত্র-  বর্ধক হিসেবে কাজ করে শরীরের জমানো ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান গুলো অপসারণ করে রক্তকে পরিষ্কার রাখে ।
  • শশা বুক জ্বালা পাকস্থলীরে এলসিডিটি এমনকি গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি দিতে পারে ।
  • প্রতিদিন শসার জুস খেলে একজিমা ও গাউটে উপকার পাওয়া যায় । এটি ডায়াবেটিস রোগ কিছুটা উপসম করে ।
  • বাত- ব্যথা  প্রশমনের জন্য শসা ও গাজর একসঙ্গে জুস বানিয়ে খেলে উপকার পাবেন ।
  • শসার জুস কিডনি এবং গল ব্লাডের পাথর অপসারণ এর সহায়তা করে ।
  • শসা হাত ও পায়ের নখ ভাঙ্গা প্রতিরোধ করে ।
  • পাইরিয়ার কারণে দাত ও মাড়ির রোগে শসা উপকারী ।
শসার উপকারিতাঃ
দেহের পানি শূন্যতা দূর করে-
ধরুন আপনি এমন কোথাও আছেন , যেখানে হাতের কাছে পানি নেই , কিন্তু শসা আছে ।বড়সড় একটা শসা চিবিয়ে খেয়ে নিন । পিপাসা মিটে যাবে । আপনি হয়ে উঠবেন চনমনে ।  কারণ শসার ৯০ শতাংশ পানি ।

দেহের ভেতর বাইরের তাপ শোষক-
কখনো কখনো আপনি শরীরের ভেতর বাইরে প্রচন্ড উত্তাপ অনুভব করেন । দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয় । এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিন । এছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকের জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে শরীরে ঘষে নিন।  নিশ্চিত ফল পাবেন ।

বিষাক্ততা দূর করে-
শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপারেশন অনেকটা অদৃশ্য জটার মত কাজ করে । নিয়মিত শসা খাওয়ার কিডনিতে সৃষ্ট পাথর গলে যায় ।

প্রাত্তাহিক ভিটামিন এর শূন্যতা পূরণ করে-
প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয় , তার বেশিরভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান । ভিটামিন এ বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায় । সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এর তিন ধরনের ভিটামিনের গার্তি পূরণ হবে ।

হজম ও ওজন রাশে সহায়ক-
ভাসাই উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রায় কেলরিযুক্ত উপাদান রয়েছে । ফলে যারা দেহের ওজন কমাতে চান , তাদের জন্য শসা আদর্শ  টনিক হিসেবে কাজ করে । যারা ওজন কমাতে চান তারা সোফ ও সালাতে বেশি শসা ব্যবহার করবেন । কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে । নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ।

চোখের জ্যোতি বাড়ায়-
সৌন্দর্য চর্চা অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন । এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয় তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে । চোখের প্রবাহ প্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকাই ছানি করা টেকাতেও এটি কাজ করে ।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে-
শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল এ তিনটি উপাদান আছে । জরায়ু স্তন ও মুত্র  গ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যান্সার হওয়ার যোগ্য কামনা সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে ।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে-
ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দেয় , কোলেস্টেরল কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ।

মুখ পরিষ্কার রাখে-
দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মারীর চিকিৎসায় শসা ধারুণ কাজ করে । গোল করে কাটা এক সাইন্স শসা জিব্রার উপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধা মিনিট রাখুন । শসার সাইটো কেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া গুটিইয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে । সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস ।

চুল ও নখ সতেজ করে-
শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখ শক্তিশালী করে তুলে । এছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।

গেটে বাত থেকে মুক্তি-
শ্শাই প্রচুর পরিমাণ সিলিকা আছে । গাজরের রসের সঙ্গে সশার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক এসিডের মাত্রা নেমে আসে ।গেটে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

মাথা ধরা থেকে মুক্তি-
ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর অনেকেই মাথা ধরে । শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে । শসায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি ও সুগার আছে । তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক সায়েন্স শসা খেয়ে নিলে ঘুম থেকে উঠার পর এর সমস্যা থাকবে না ।

কিডনি সুস্থ রাখে-
শরীরের ইউরিক এসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা । এতে কিডনি সুস্থ ও সতেজ থাকে । শশা কে যেমন পুষ্টিকর সবজি হিসেবে খাওয়া হয় তেমনি ব্যবহার করা হয় রোগ নিরাময় ।

শসার পুষ্টি উপাদান ঃ

শসা ভিটামিন এবং মিনারেল পরিপূর্ণ একটি সবজি । এর ৯৬ শতাংশ পানি । শসা ভিটামিন কে , ভিটামিন সি ,ভিটামিন এ ,ফলিক এসিড , পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এর উত্তম উৎস । এছাড়া রিবোফ্লাবিন ,প্যান্টোথেনিক এসিড , ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম  ,ফসফরাস  ,সালফার ,  সিলিকা এবং ভিটামিন বি সিক্স আছে বেশি পরিমাণে । শসা থেকে খাদ্য আশ পাওয়া যায় । এতে আরো রয়েছে ফাইটো নিউট্রিইয়েন্টস,কিউকারবিটকিন্স,লিগানান্স এবং ফ্লাভনয়েডস ।
শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক আপনারা যদি শুরু থাকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন শসার উপকারিতা এবং শসার গুনাগুন । এবং আরো আলোচনা করেছি শসার  উপাদান সম্পর্কে । তথ্যবহুল আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে । তাহলে এরকম আরো পোস্ট করতে আমাদের নিয়মিত ভিজিট করবেন ধন্যবাদ ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url