গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

 গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার । অনেককে বছরের প্রায় সময়ই বুকতে হয় এই সমস্যায় । আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসেবে পাওয়া যায় অনেক নামিদামি ঔষধ । কিন্তু আমাদের হাতের কাছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময় তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি দরকার ।

তাই আপনি যদি এসব  প্রাকৃতিক বিষয় সম্পর্কে জানতে চাই তাহলে নিচের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন । তাহলে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে গ্যাস্ট্রিক নিরাময় করা যায়।

পেজ সুচিঃ গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

  • লং
যদি আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকেন তবে লং হতে পারে আপনার সঠিক তথ্য । দুইটি লং মুখে নিয়ে চিবাতে থাকুন , যেন রসটা আপনার ভেতরে যাই । দেখবেন এসিডিটি দূর হয়ে গেছে । নিচে আমরা গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধানের অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব ।

  • জিরা 
১ চা চামচ জিরা নিয়ে ভেজে ফেলুন । এবার এটি কি এমন ভাবে ঘুরা করুন যেন পাউডার না হয়ে যায় , একটু ভাঙ্গা ভাঙ্গা থাকে । এই ঘোড়াটি এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিবার খাবারের সময় পান করুন। দেখবেন কেমন ম্যাজিক এর মত কাজ করে ।

  • গুড়
গুঁড় আপনার বুক জ্বালাপোড়া এবং এসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে পারে। যখন বুক জ্বালাপোড়া করবে সাথে সাথে একটুকরো গুঁড় মুখে নিয়ে রাখুন যতক্ষণ না সম্পূর্ণ গলে যায়। তবে ডায়বেটিস রোগিদের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ।

  • মাঠা

দুধ এবং মাখন দিয়ে তৈরী মাঠা একসময় আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় ছিল। এসিডিটি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করে যদি এর সাথে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়া যোগ করেন।

  • পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার রস গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে এসিডিটি ও বদহজম থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

  • বোরহানী

বিয়ে বাড়িতে আমাদের বোরহানী না হলে চলেই না। টক দই, বীট লবণ ইত্যাদি নানা এসিড বিরোধী উপাদান দিয়ে তৈরী বলে এটি হজমে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন ভারী খাবারের পর একগ্লাস করে খেতে পারলে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

  • তুলসী পাতা

হাজারো গুণে ভরা তুলসী পাতার কথা আপনারা সবাই জানেন। এসিডিটি দূর করতেও এর ভূমিকা অনন্য। যখন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে ৫-৬ টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে দেখবেন এসিডিটি কমে গেছে। তুলসী পাতা যে প্রতিদিন ব্লেন্ড করে পানি দিয়ে খাবেন, তার এসিডিটি হওয়ার প্রবনতা অনেক কমে যাবে।

  • আঁদা

আঁদাও এমন একটি ভেষজ উপাদান যা আমাদের অনেক কাজে লাগে। প্রতিবার খাদ্য গ্রহনের আধা ঘন্টা আগে ছোট এক টুকরো আঁদা খেলে দেখবেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা গায়েব হয়ে গেছে।

  • দুধ

দুধের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা পাকস্থলীর এসিড কমাতে সাহায্য করে। রাতে একগ্লাস দুধ ফ্রিজে রেখে দিয়ে পরদিন সকালে খলি পেটে সেই ঠান্ডা দুধটুকু খেলে সারাদিন এসিডিটি থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তবে কারো পেট দুধের প্রতি অতিসংবেদনশীল, এদের ক্ষেত্রে দুধ খেলে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

  • ভ্যানিলা আইসক্রিম

আইসক্রিম খেতে আমরা সবাই পছন্দ করি। কিন্তু আপনি কি জানেন ভ্যানিলা আইসক্রিম শুধু আমাদের তৃপ্তিই যোগায় না, সাথে এসিডিটি দুর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে! কি এটা শুনে আইসক্রিম খাওয়া আরো বাড়িয়ে দিলেন নাকি? তবে সাবধান আবার ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলবেন না কিন্তু।

  • শেষ কথাঃ
আমাদের এই তথ্যবহুল আর্টিকেলটিতে আলোচনা করেছি যে কিভাবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধান করা যায় । আপনারা যদি মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়ে থাকেন তাহলে উক্ত বিষয়গুলো জানতে পেরে খুবই উপকৃত হবেন । এরকম আরো তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url