কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়

আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? এ বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অনেকেই কোন ধারণা রাখি না। আমাদের শরীরের জন্য কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? বিষয়টি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। আজকের এই আর্টিকেলে কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়

কোলেস্টেরল কেন হয়?

কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? বিষয়টি জানার আগে আমাদেরকে কোলেস্টেরল কেন হয়? এ বিষয়ে জানতে হবে। আপনি যদি জানতে পারেন যে কোলেস্টেরল কেন হয়? তাহলে খুব সহজেই এর চিকিৎসা বের করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ শীতকালীন সবজির নামের তালিকা

কোলেস্টেরল হল এক ধরনের চর্বি জাতীয় তৈলাক্ত কোষ ঝিল্লি। এগুলো প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেল মেমব্রেনের এটি একটি অত্যাবশক উপাদান। প্রথমত আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণেই কোলেস্টেরল হয়ে থাকে। বেশি শুয়ে বসে থাকা এবং অতিরক্ত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করার ফলে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া কিছু খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান করা মদ্যপান করা জর্দা সেবন করা সহ আরো বিভিন্ন রকম খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরল হয়ে থাকে। এছাড়া এ রোগের জন্য দায়ী ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ এর ওষুধ যা কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কাবা বাড়িয়ে দেয়।

কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়

আমরা অনেকেই কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণগুলো বুঝতে পারি না। কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? এ বিষয়ে কোন ধরনের জ্ঞান না থাকার কারণে বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? তা জেনে নিন।

১। কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন রকম সমস্যায় ভুগে থাকে। এ রোগে রক্ত প্রবাহে অতিরিক্ত কোলেস্ট্রল দেখা যায়। যার রক্তের স্বাভাবিক চলাচল বাধা গ্রস্থ করে।

২। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এর ফলে হৃৎপিণ্ড বিকল হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যাকে বলা হয় হাইপার কোলেস্টেরলোমিয়া লিপিড ডিসঅর্ডার।

৩। শরীরে কোলেস্টেরল বেশি হলে একটুতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সামান্য কাজ করার পরেই শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

৪। অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। এ ধরনের সমস্যা হলে উচ্চ রক্তচাপে ভোগে।

৫। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে বুকে ব্যথা হয়ে থাকে।

৬। শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলে বমি বমি ভাব এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যেতে পারে।

কোলেস্টেরলের লক্ষণ গুলো কি কি

শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। কোলেস্টেরলের লক্ষণ গুলো কি কি? এ বিষয়ে অবশ্যই জানা উচিত। আপনি যদি কোলেস্টেরলের লক্ষণ গুলো কি কি জানতে পারেন তাহলে খুব সহজেই এই রোগটি নির্বাচন করতে পারবেন এবং ঘরে বসে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

যদি শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় তাহলে এটি রক্ত প্রবাহকে স্বাভাবিক চলাচলে বাধাগ্রস্থ করে। এছাড়া এটি আমাদের হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। এ রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ হল বমি বমি ভাব হওয়া মাঝেমধ্যে বমি হওয়া। শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত পরিমাণে শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং শ্বাসকষ্ট সহ বুকে ব্যথা।

সাধারণত উপরে উল্লেখিত লক্ষণ গুলোই কোলেস্টেরল রোগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সেই অনুযায়ী আপনাকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমাতে হবে।

কোলেস্টেরল হলে কি কি খাওয়া নিষেধ - কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা

অতিরিক্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল হলে কি কি খাওয়া নিষেধ? অর্থাৎ কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে আমাদেরকে জানতে হবে। কারণ আমাদের খাদ্যের উপর নির্ভর করে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কতটা কম হচ্ছে। তাই আপনাকে সুস্থ থাকতে হলে কোলেস্টেরল হলে কি কি খাওয়া নিষেধ? এবং কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা জানা জরুরী।

আরো পড়ুনঃ দোয়া মাসুরা না পড়লে কি নামাজ হবে

১। দেহের কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমাতে এবং শক্তি জোগাতে আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন মটরশুটি ও টফু। এগুলো খেলে আপনার দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং শক্তি যোগায়।

২। মাছ খাওয়ার ফলে সেটি আমাদের শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনাকে সপ্তাহে নিয়মিত তিন দিন অথবা এর থেকে বেশি মাছ খেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে হাই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।

৩। রসুন পেঁয়াজ আমাদের শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এছাড়া এগুলো আমাদের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনি নিয়মিত রসুন এবং পেঁয়াজ খেতে পারেন।

৪। অলিভ অয়েল এর মধ্যে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ই। যা আমাদের দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।

৫। আপনি যদি আপনার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে চান তাহলে ননী যুক্ত দুগ্ধ জাত খাবার নিয়মিত খেতে পারেন। যা আপনার শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল বের করে দেয়।

৬। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খেতে হবে। এই উপাদানটি আমাদের শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই যে সকল খাবারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটিয়াসের রয়েছে সেগুলো নিয়মিত সেবন করতে হবে।

৭। সব ধরনের শাকসবজি এবং ফল খেতে পারেন। আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত শাকসবজি এবং ফল রাখুন তাহলেই এটি আপনার শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন রাখতে পারেন।

আপনি যদি কোলেস্টেরল কমাতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে, এছাড়া কোন ধরনের কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া যাবেনা এটি মানুষের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে সোডা তাই সোডা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। যেকোনো ধরনের কেক এবং চকলেট থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে এগুলো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির উপায় - কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে করণীয়

আমাদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ানো যাবে না। আমরা ইতিমধ্যেই কোলেস্টরেল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে করণীয় গুলো জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির উপায় বের করতে পারব। তাই আপনাদের খারাপ কোলেস্টেরল গুলো কমানোর জন্য কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে করণীয় এবং কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির উপায় গুলো উল্লেখ করা হলো।

১। যেকোনো কিছু খাবার আগে খাবার সম্পর্কে জানুন। অনেক খাবারের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে যেগুলো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে আরো বেশি কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। তাই যে কোন খাবার কিনার আগে প্রথমে আমাদেরকে সে সম্পর্কে জেনে নিতে হবে ভালো হবে।

২। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আমাদের শরীরের আদ্রতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা পানি করতে পারে। আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন তাহলে এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল গুলোকে বের করে দেয় এবং রক্তের ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

৩। বাদাম জাতীয় খাবার খাবেন। বাদাম জাতীয় খাবারের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভালো কোলেস্টেরল। এছাড়া বাদাম জাতীয় খাবার থেকে মিলবে একাধিক উপকারিতা কারণ এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এছাড়া এগুলো কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪। শারীরিক পরিশ্রম করুন। আমাদের শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর সবথেকে কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শারীরিক পরিশ্রম করা। আমরা যদি প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম করি তাহলে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কোন প্রশ্নই আসে না। কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হলো সব সময় শুয়ে বসে থাকা শারীরিক পরিশ্রম না করা।

আরো পড়ুনঃ সরিষা তেলের উপকারিতা - ত্বকে সরিষার তেলের উপকারিতা

    ৫। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। আপনি যদি শারীরিক পরিশ্রম নাও করেন তাহলে অন্তত নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন যা আপনার শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করবে।

    আমাদের শেষ কথাঃ কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়

    প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে কোলেস্টেরল বেশি হলে কি কি সমস্যা হয়? কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির উপায়, কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে করণীয়, কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা, কোলেস্টেরল হলে কি কি খাওয়া নিষেধ? কোলেস্টেরলের লক্ষণ গুলো কি কি? কোলেস্টেরল কেন হয় এ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি উত্তর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন ধন্যবাদ। ২০৭৯১

    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url