আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা

আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জেনে রাখা।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা

আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগের কারণ

বিভিন্ন সময় আমাদের বিভিন্ন রকমের রোগ হয়ে থাকে রোগ গুলোর মধ্যে আলসারেটিভ কোলাইটিস অন্যতম একটি। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা কিংবা পায়খানা সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সমস্যায় আমরা অনেকেই ভোগে থাকি। এই ধরনের লক্ষণকে আলসারেটিভ কোলাইটিস বলা হয়। এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগের কারণ এবং আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে।

আরো পড়ুনঃ পিতা মাতার জন্য দোয়া - জীবিত পিতা মাতার জন্য দোয়া

আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগটি সাধারণত ২০-৪০ বছর বয়সের মাঝামাঝি মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কেউ যদি মনে করে কোলনের অন্তর্গাত্রের আবরণ যদি দুর্বল হয় তবে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের মধ্যে কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণের দুশ্চিন্তায় ভোগে থাকে তার এই ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কেউ যদি দুধ কিংবা দুগ্ধ জাত খাবার খায় অথবা আমাশয় ভোগে তার আলসারেটিভ কোলাইটিস এর লক্ষণগুলো বারবার দেখা যায়। এ রোগ থেকে রোগির এক সময় পেটে মারাত্মক ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। ছোট ছোট আলসার পুরো কোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। যেহেতু আলসার গুলো একে অন্যের সাথে আটকে থাকে। এ রোগ জিনগত কারণে বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে।

আলসারেটিভ কোলাইটিস এর লক্ষণ

আমরা যদি কোন রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিতে পারি তাহলে খুব সহজে ঐ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবো। আলসারেটিভ কোলাইটিস মারাত্মক একটি রোগ তাই আমাদেরকে আলসারেটিভ কোলাইটিস এর লক্ষণ সম্পর্কে আগে জানতে হবে।

আলসারেটিভ কোলাইটিস এর লক্ষণঃ

১। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হওয়া।

২। পায়খানা সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।

৩। অনেক সময় এমনিতেই কোন কারণ ছাড়া মলদ্বার দিয়ে আম জাতীয় পদার্থ বের হওয়া।

৪। মলদ্বার দিয়ে অনেক সময় রক্ত যাওয়া।

৫। সময় মতো বাথরুমে যেতে না পারলে পায়খানা হয়ে কাপড় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬। তলপেটে মোচর দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রচন্ড পায়খানার বেগ অনুভব হওয়া

৭। ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও রক্ত যাওয়ার ফলে রোগীর শরীরে পানি শূন্যতা দেখা যাওয়া।

আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা - আলসারেটিভ কোলাইটিস হোমিও চিকিৎসা

সঠিক সময়ে যদি আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা করা যায় তাহলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এছাড়া আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সঠিক রেখে আমরা এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারি। আমাদের মধ্যে অনেকেই আলসারেটিভ কোলাইটিস হোমিও চিকিৎসা করিয়ে থাকেন সেটাও করা যেতে পারে ভালো হয়। আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

ওপরে এ রোগের লক্ষণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে যদি সেই লক্ষণগুলো আপনার প্রকাশ পায় তাহলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত আলসারেটিভ কোলাইটিস যদি ইনফেকশন থেকে হয় তাহলে কিছুদিন এন্টিবায়োটিক খেলে ঠিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারো যদি সুগার থাকে তাহলে এ রোগে তাকে ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক নিষেধ মেনে চলতে হবে।

সঠিক চিকিৎসা না করলে আলসারেটিভ কোলাইটিস তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। যদি প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ওষুধের মাধ্যমে আলসারেটিভ কোলাইটিস না ভালো হয় তাহলে অপারেশনকে বেছে নিতে হবে এর শেষ এবং কার্যকরী চিকিৎসা হিসেবে। এই ক্ষেত্রে কোলন কেটে বাদ দেওয়া হয়। যদি সময়মতো আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা না করা হয় তাহলে বড় আকার ধারণ করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ মাথার রগে সমস্যা - মাথার রগে ব্যাথা

আলসারেটিভ কোলাইটিস হোমিও চিকিৎসা এর মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আপনার যদি উপরের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তাহলে ভালো কোন হোমিও চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। হোমিও চিকিৎসকে আপনার সমস্যার কথাগুলো পরিষ্কার করে বলতে হবে এরপরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে দেখতে হবে।

আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা - আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার

যদি আমরা প্রাথমিক অবস্থায় আলসারেটিভ কোলাইটিস নির্ণয় করতে পারি তাহলে আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা সঠিক রেখে এ রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারব। আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা নিজে উল্লেখ করা হলোঃ

ফলের রস খেতে হবে - আমরা জানি যে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ফলের রস খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী। ফলের রস খাওয়ার আগে ত্বকের খোসা ছাড়িয়ে পিথটি সরিয়ে ফেলতে হবে।

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড - ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন অসুখ থেকে ওমেগা থ্রি ফাটিয়া সিড সাহায্য করে থাকে। তাই মেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

আলসারেটিভ কোলাইটিস হলে কি ধরনের খাবার খেতে হবে এবং কি ধরনের খাবার খাওয়া যাবেনা এ সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জ্ঞান রাখতে হবে। কি ধরনের খাবার খাওয়া যাবে সেগুলো হলঃ

১। সাদা ভাত

২। সাদা রুটি

৩। বাড়ির তৈরি পাস্তা বা নুডুলস

৪। বিচার ছাড়া রান্না করা সবজি

৫। বিশুদ্ধ উদ্ভিজ্জ সুপ

৬। নরম মাংস এবং মাছ

৭। সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি বিস্কুট

এই রোগ হলে যে খাবার গুলো থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে সেগুলো হলঃ

আরো পড়ুনঃ পাহাড়পুর কোন জেলায় অবস্থিত - পাহাড়পুর কোন নদীর তীরে অবস্থিত

১। বাদাম জাতীয় খাবার

২। ভুট্টা

৩। কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি

৪। ঝাল জাতীয় খাবার

৫। দুগ্ধ জাত খাবার

৬। অ্যালকোহল

৭। ক্যাফিন

৮। মাংস

৯। শুকনো ফল

১০। সালফার যুক্ত খাবার

১১। আঁশযুক্ত খাবার

১২। কার্বনেট এর পানীয়

আমাদের শেষ কথাঃ আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর খাবার তালিকা

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে আলসারেটিভ কোলাইটিস হোমিও চিকিৎসা, আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসা, আলসারেটিভ কোলাইটিস এর লক্ষণ, আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।

যদি এই রোগে ভুগে থাকেন তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে নেবেন যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এখনই পড়ে নিন ধন্যবাদ। ২০৭৯১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url